দুই জনের কমিটিতে দুই বছর পার

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ০১:২২ এএম

শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে আংশিক কমিটি গঠনের দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন প্রায় দুই মাস আগে বেরোবি ক্যাম্পাসে এসে নেতাকর্মীদের দাবির মুখে যত দ্রুত সম্ভব এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি বলে অভিযোগ বেরোবি শাখা ছাত্রলীগ কর্মীদের। এ পরিস্থিতিতে হয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা, নতুবা বিদ্যমান কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের প্রথম সম্মেলন হয়। পরদিন আবু মোন্নাফ আল তুষার কিবরিয়াকে সভাপতি এবং কামরুল হাসান নোবেল শেখকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য দুই সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জাকির-সোহাগ কমিটি থাকাকালীন কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা চাইলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা জমা দিতে বিলম্ব করেন তুষার-নোবেল। এতে বিরক্ত হয়ে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আর সই করেননি জাকির-সোহাগ। এরই মধ্যে পরিবর্তন আসে কেন্দ্রীয় কমিটিতে। নেতৃত্বে আসেন শোভন-রাব্বানী। আবার আশার আলো দেখতে শুরু করেন বেরোবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় কমিটি হওয়ার পর সভাপতি শোভন ও  সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার আশ্বাস দেন। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও কমিটি আর পূর্ণাঙ্গ হয়নি।

এদিকে গত ১০ জুন কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভন বেরোবি ক্যাম্পাস সফরে এলে নেতাকর্মীরা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জোর দাবি জানান। এ সময় শোভন কর্মীদের গ্রুপিংয়ে না জড়িয়ে একতাবদ্ধ থাকতে উপদেশ দেন এবং দ্রুত কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার আশ্বাস দেন। পরে গত ২৫ জুলাই কুড়িগ্রাম থেকে ত্রাণ বিতরণ শেষে ঢাকা ফেরার পথে বেরোবির ১নং ফটকে যাত্রাবিরতি করেন শোভন। এ সময় নেতাকর্মীরা আবারও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবি জানান। তখন শোভন বলেন, ‘ঠিক আছে, আমি ঢাকা গিয়ে কমিটি ঘোষণা দেব।’ কিন্তু ঢাকায় ফিরে তিনি কমিটি ঘোষণা করেননি। এদিকে ছাত্রলীগের রেওয়াজ অনুযায়ী, শোকের মাস হিসেবে বিবেচিত আগস্টে কোনো কমিটি দেওয়া হয় না। ফলে বেরোবি শাখার নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে হতাশা এবং কমিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেরোবি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম জয় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্র কমিটি পূর্ণাঙ্গ করবে না, আবার বেরোবিতে রক্তারক্তি ঘটলে এর দায়ও নেবে না। তা হলে আমরা পলিটিক্যাল ছেলেগুলো যাব কোথায়? হয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে দেওয়া হোক, নয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হোক।’

বোরোবি শাখা ছাত্রলীগের কর্মী আশিকুর রহমান বাঁধন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি অনুরোধ, হয় বেরোবি শাখাকে সাংগঠনিকভাবে অরাজনৈতিক হিসেবে ঘোষণা করুন। না হয় কমিটি দেন। তিন বছর রাজনীতি করেও বাইরে গিয়ে আমরা পরিচয় দিতে পারি না।’ 

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া বলেন, ‘কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য আমরা কেন্দ্রীয় সভাপতি-সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হবে বলে শোভন-রাব্বানী ভাই আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত