চাঁদপুর শহর রক্ষাবাঁধে ভাঙন, ৪ বসতঘর বিলীন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৪৬ এএম

চাঁদপুর শহর রক্ষাবাঁধের পুরান বাজার হরিসভা এলাকায় দেখা দিয়েছে মেঘনা নদীর ভাঙন। শনিবার রাতে হঠাৎ করে  হরিসভা মোড় থেকে রনাগোয়াল পর্যন্ত নদী ভাঙন দেখা দেয়।

স্থানীয়দের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডে উদাসীনতার কারণে এই নদী ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনরোধে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে পুরানবাজারের হরিসভা এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। উত্তরাঞ্চরের পানি মেঘনা হয়ে সাগরে যাওয়ার সময় নদীতে দেখা দেয় তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণির।

এতে করে হরিসভা এলাকার অবস্থিত ৪টি বসতঘরসহ প্রায় ২শ’ মিটার শহররক্ষা বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে যায়। নদীর পাড়ের মাটিতে দেখা দিয়েছে বড় বড় চিড়। ভাঙনের ঝুঁকিতে হয়েছে আরও প্রায় ২৫-৩০টি বসতঘর ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান।

ইতোমধ্যে ৪টি বসতঘরসহ বেশকিছু ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে এই ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সরেজমিন হরিসভা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে গেছে মরন সাহা, আদি সাহা, দিপক দে ও সম্ভু দের বসতঘর। ভাঙন আতঙ্কে ইতোমধ্যে আশপাশের বাসিন্দারা ঘরের আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। যথাসময়ে নদীতে ব্লক ও বালির বস্তা না ফেলায় ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দা ও নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির নেতাদের।

পানির স্রোতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেলে গোটা পুরানবাজার এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হওয়া আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

image

নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির চাঁদপুর দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীপনা ও উদাসীনতাই ভাঙনের মূল কারণ।

তিনি বলেন, ‘বিগত এক মাস পূর্বে নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির নেতাদের এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অবহিত করেন, যে কোনো সময় এলাকাটি নদীতে বিলীন হতে পারে। তারা তখন আমাদের বলেছেন, তাদের সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু এরপরে  তারা আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যার ফলে আজকে এই নদী ভাঙন। পানি উন্নয়ন কর্মকর্তাদের অবহেলায় আজকে পুরানবাজার এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।

ভাঙনের খবর পেয়ে ইতোমধ্যে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ও চাঁদপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নদীতে ইতোমধ্যে ৬৫ মিটার বাঁধ ডেমেজ হয়ে গেছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ড্যাম্পিং বস্তা ফেলা শুরু করেছি। আশা করি আমরা নদী ভাঙনরোধ করতে পারবো।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ভাঙনরোধে

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোড, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগের সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন। ইতোমধ্যে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। আমাদেরকে শিক্ষামন্ত্রী দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেইভাবে কাজ করছি। আশা করি আমরা ভাঙনরোধ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত