ডেঙ্গু টেস্ট ও চিকিৎসা উপকরণ আমদানিতে সব ধরনের শুল্ককর প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় এসব উপকরণের সংকট দেখা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সংস্থাটি। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই অব্যাহতি সুবিধা বহাল থাকবে। এতে এসব উপকরণের আমদানি বৃদ্ধি ও দাম কমবে বলে মনে করছে সরকার।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
জানান, এতদিন ডেঙ্গু টেস্ট কিটস আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও ৫ শতাংশ অগ্রিম মূল্য সংযোজন করসহ (ভ্যাট) মোট ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশ শুল্ককর পরিশোধ করতে হতো। ডেঙ্গুর রি-এজেন্ট আমদানির ক্ষেত্রে এতদিন ৩২ দশমিক ৪০ শতাংশ শুল্ককর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হতো। এর মধ্যে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ এআইটি, ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট আরোপ ছিল। আর প্লাটিলেট ও প্লাজমার কিট আমদানিতে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ৫ শতাংশ এআইটি ও ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাটসহ মোট ১৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ শুল্ককর আরোপ ছিল।
এনবিআরের সদস্য ও চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) সুলতান মো. ইকবাল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদিত পরিমাণ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ককর অব্যাহতি সুবিধা কার্যকর হবে। অর্থাৎ, এসব উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হবে। আমদানি করা পণ্য মানসম্পন্ন কি না তা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর নিয়মিত মনিটরিং করবে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অনেকের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে চিকিৎসকরা জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু টেস্ট করার পরামর্শ দিচ্ছেন। সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত রোগীরাও হাসপাতালগুলোতে গিয়ে ডেঙ্গু টেস্ট করছেন। এতে ডেঙ্গু টেস্ট উপকরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। উপকরণের অভাবে অনেক হাসপাতাল টেস্ট করা বন্ধ রেখেছে। এতে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটেই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এনবিআর এসব উপকরণ আমদানিতে সব ধরনের শুল্ককর তুলে নিয়েছে।
