দাম ভালো থাকলেও কমেছে পাটের চাষ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১০:১৫ এএম

পাট চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেললেও চলতি মৌসুমে যেসব কৃষক পাট চাষ করেছেন তারা বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাচ্ছেন। কৃষকরা বলছেন, এবার পাট চাষের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে দিনাজপুরে পাটের চাষ অনেকাংশে কমে এসেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, জেলার সদর উপজেলা, বিরল, চিরিরবন্দর, খানসামা, ফুলবাড়ী উপজেলাসহ আশপাশের উপজেলায় পাট জাগ দেওয়া এবং পরিষ্কার করার কাজ করছেন পাট চাষিরা। কেউ নদী বা ডোবাতে পাট জাগ দিচ্ছে কেউবা নদী ডোবা থেকে পাটখড়ি আলাদা করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।

খানসামা উপজেলার খামারপাড়া গ্রামের পাট চাষি মো. মাইজার রহমান বলেন, ‘গতবার আমি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। কিন্তু দাম ভালো না পাওয়ার কারণে এবার এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। কিন্তু এবার ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাচ্ছি। প্রতি মণ পাট ২ হাজার থেকে ২২ শত’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার পাটখড়িও বর্তমান বাজারে ভালো দামে বিক্রি করা যায়।’

জেলার বিরল উপজেলার ধুকুরঝাড়ী এলাকার পাট চাষি মো. আহসানুল হক বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পাট চাষে বীজ, নিড়ানি, হালচাষ, পাট কাটা ও ধোয়া বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে পাটের ফলন হয়েছে বিঘা প্রতি ১৩ থেকে ১৫ মণ। সেই তুলনায় দামও ভালো পাচ্ছি এবার।’

image

দিনাজপুরের স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ পাট ২ হাজার থেকে ২২ শত’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও জ্বালানির কাজে পাটখড়ির চাহিদা থাকায় পাটখড়ি থেকে বাড়তি দাম পায় কৃষকরা।

তবে দিনাজপুর জেলায় গত কয়েক বছরের তুলনায় পাটের চাষ অনেকাংশে কমে এসেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ২০১৭-২০১৮ মৌসুমে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৫০৭ হেক্টর বিঘা জমি। কিন্তু অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৩৩৩ হেক্টর বিঘা জমি।

অপরদিকে পরের বছর লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮ হাজার ৯১০ হেক্টর বিঘা জমি কিন্তু সেখানে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ৪ হাজার ৮৫ হেক্টর বিঘা জমি।

চলতি মৌসুমে (২০১৯-২০২০) পাটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৮০ হেক্টর বিঘা জমি সেখানে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা হল, ৩ হাজার ৭৫৮ হেক্টর বিঘা জমি।’

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তৌহিদুল ইকবাল বলেন, দিন দিন পাটের চাষাবাদ কমতে শুরু করেছে। মূলত এর আগে কৃষকরা পাটের ন্যায্যমূল্য পায়নি এবং আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় পাট চাষে কৃষকরা সুবিধা করতে পারেনি।

তবে চলতি মৌসুমে পাট চাষের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা এবার পাট চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত