ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া তার বিদায়ী মতবিনিময় সভায় নিজের সাফল্য-ব্যর্থতার কথা জানিয়েছেন।
১৩ অগাস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যাবেন তিনি। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত বিদায়ী মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের জানালেন সাফল্য-ব্যর্থতার কথা।
তিনি বলেন, এখানে সফলতা যদি কিছু থাকে সেটি আমি বলব, আমার যে টিম ডিএমপি, ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্যকে দেশের জন্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে জনগণের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য এক সূত্রে রেখে কাজ করা সেটি আমার বড় সফলতা।
এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গি দমনে আমাদের সাফল্য দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে এবং এটি রোল মডেল হিসেবে সারা বিশ্ব নিয়েছে। আমরা একটি অনন্য কাজ করেছি; ভাড়াটিয়াদের ডেটাবেজ তৈরি করেছি। এ মুহূর্তে প্রায় ৭২ লাখ নাগরিকের ডেটাবেজ আমাদের সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিআইএমএস) আছে।
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ব্যর্থতার কথা যদি বলি, অকপটে বলব জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যে একটি ব্যবধান, এটি আমরা অনেক কমিয়ে এনেছি। কিন্তু এখানে আমরা শতভাগ সফল হইনি। থানায় মানুষ যে ধরনের সেবা পায়। সে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য শতভাগ আমরা পূর্ণ করতে পারিনি।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি ব্যর্থতার কথা বলব, ঢাকা শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং একটি যানজটমুক্ত শহর করতে পারিনি।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুলিশকে ব্যবহার যে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ আমার কর্মকালের সময় কোনো কাজ করেছে, এমন কোনো সত্যতা নেই, এগুলো যারা বলে, তা বিভ্রান্তিমূলক, উদ্দেশ্যমূলক।
তিনি বলেন, আমরা যখন আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি, কেউ অবরোধ করেছে, আগুন দিয়েছে, মানুষের ওপর চড়াও হয়েছে, বোমা ছুড়েছে। এসব নৈরাজ্যমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করার দৃশ্যমান দায়িত্ব সংবিধান ও ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড আমাদের ওপর ন্যস্ত করেছে।
পুলিশে দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্যায়, দুর্নীতি বাংলাদেশের প্রত্যেকটা পেশাতেই কমবেশি আছে।
দায়িত্বপালনকালে সাংবাদিকদের কাছ থেকে নানাভাবে সহযোগিতা পাওয়ার কথা স্মরণ করে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আছাদুজ্জামান মিয়া।
