ঈদেও বিপণিবিতানে বিক্রি কম

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০১:৫৩ এএম

ঈদুল আজহা সামনে এলেও রাজধানীর বিপণিবিতানে ক্রেতাদের ভিড় কম। প্রত্যাশিত বেচাকেনা না হওয়ায় বিক্রেতাদের মুখে হতাশার ছাপ। তারা বলছেন, ব্যাপক মাত্রায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবই এর কারণ। এছাড়া ডেঙ্গুর চিকিৎসায় ব্যয়ের সঙ্গে কোরবানির গরু কেনার জন্য অনেকের অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। তাই পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের আশানুরূপ বিক্রি নেই। গত কয়েক দিন রাজধানীর নিউ মার্কেট, গাউছিয়া ও বসুন্ধরা সিটিতে ঘুরে দেখা যায়, কেনাকাটা এবং ক্রেতাদের উপস্থিতি কম।

বিক্রেতারা বলছেন, রোজার ঈদের মতো না হলেও কোরবানির আগে মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় থাকে। কিন্তু এবার গত কয়েক বছরের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি নেই। তারা মনে করেন, ডেঙ্গুর কারণে মানুষের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ কারণে অনেকে আগেই ঢাকা ছেড়ে গ্রামে পাড়ি জমিয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক পরিবার পড়েছে অর্থ সংকটে। কিছু পরিবারে স্বজনরা ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে কেনাকাটায়। ডেঙ্গু ছাড়াও বন্যা-বৃষ্টির দুর্ভোগের জন্যও বেচাকেনা কমেছে। ফলে অল্প লোকই বাজারে আসছে। মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, শিশুদের পোশাক ও কসমেটিকস, জুতা, ব্যাগের চাহিদা বেশি। সেই তুলনায় বড়দের থ্রি-পিস, শাড়ি, শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে কম। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শুক্রবারসহ ঈদের আগের রাতে ভালো বিক্রি হতে পারে।

নিউ মার্কেটের দোকান নিউ পায়েলের বিক্রয়কর্মী আরিফুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই ঈদে এখনো আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। মার্কেটে ক্রেতাই আসছে না, বিক্রি করব কীভাবে। ছোটদের পোশাকগুলোর চাহিদা বেশি। গত শুক্র ও শনিবার একটু বেচাবিক্রি হয়েছে। গত কোরবানিতে এই সময় অনেক বেচাবিক্রি ভালো ছিল।’ তিনি বলেন, ‘শুক্রবারে বেচাবিক্রি ভালো হতে পারে। ঈদের আগের রাতেও মোটামুটি বিক্রি হওয়ার আশায় আছি।’

ধানমণ্ডি থেকে গাউছিয়া মার্কেটে আসা ক্রেতা ঝুমুর রহমান বলেন, ‘আমার বোনের ছেলে ডেঙ্গুজ¦রে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি। দেখাশোনার জন্য আমাকেই থাকতে হয় হাসপাতালে। কেনাকাটার সময় কোথায়? তবু মেয়ের জন্য জামা, জুতা ও নিজের কসমেটিকস কিনতে এসেছি। মেয়ে সকাল থেকে বায়না ধরে বসে আছে।’ বসুন্ধরা শপিংমলে মিরপুর থেকে আসা ক্রেতা নূরনবী আহমেদ বলেন, ‘মা ও দুই বছরের মেয়ের জন্য পোশাক কিনতে এসেছি। মায়ের জন্য তিন হাজার টাকা দিয়ে একটা জামদানি শাড়ি কিনেছি। এখন মেয়ের জন্য দেখছি। এই ঈদে গরু কেনার জন্য অনেক খরচ হয়েছে, তাই পরিবারের অন্য কারও জন্য কিছু কিনতে পারছি না।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত