বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া কর্মসূচির অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে তার সরকারি বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সপ্তম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের জন্য দিল্লি সফরে গেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। গতকাল রাতে তার দেশে ফেরার কথা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির
ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে একটানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দনও জানান তিনি।
বৈঠকের শুরুতে দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় মোদিকে অভিনন্দন জানান তিনি। সীমান্তে মাদকসহ সব চোরাচালান বন্ধে ভারত সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে কোনো সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যাতে ভারতসহ অন্য কোনো দেশের ক্ষতি করতে না পারেÑ সে বিষয়ে বাংলাদেশের গৃহীত নীতিরও প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারত সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন আসাদুজ্জামান খাঁন। জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার ইতোমধ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে এই সমস্যা সমাধানে আলোচনা করেছে। এ সময় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি। বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নে বিমসটেক কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন মোদি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল বলে মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অবলোকন করার জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণের কথাও বলেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান ও আইজিপি ড. মো. জাবেদ পাটোয়ারী।
এর আগে বুধবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সপ্তম বৈঠক হয়। এটা ছিল ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের প্রথম বৈঠক। বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদে ও দ্রুত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে ভারত সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন অমিত শাহ।
বৈঠকে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় আসাদুজ্জামান খাঁনকে অভিনন্দন জানান অমিত শাহ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের মানবিক সহযোগিতা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে দুই মন্ত্রী নিরাপত্তা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনাসহ সব বিষয়ে দুই দেশ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সীমানা/ভূমি ব্যবহার করে কোনো সন্ত্রাসী, জঙ্গি, ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী যাতে ভারতসহ অন্য কোনো দেশের ক্ষতিসাধন করতে না পারে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের গৃহীত নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনের প্রয়োজনীয়তার কথা দুই মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারতের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভা শেষে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বাংলাদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
