ঝিনাইদহের শৈলকুপার গড়াই নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে ৬ গ্রামের মানুষ। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর, মসজিদ, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট। বছরের পর বছর এমন চললেও তা রোধে কর্তৃপক্ষের নেই কোনো উদ্যোগ। ফলে হুমকির মধ্যেই দিন কাটছে নদীতীরের মানুষের।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়–ড়িয়া, কৃষ্ণনগর, মাদলা, মাঝদিয়া, উলুবাড়িয়া ও নলখোলা গ্রামে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি ও জমি। এক সময় এখানে ছিল চাষের জমি, ছিল রাস্তাঘাট।
‘বড়–ড়িয়া গ্রামের ৪ ভাগের ৩ ভাগ নদীতে ভেঙে গেছে। ওয়াপদা থেকে লোক আসে আর যায়, এমপি, মন্ত্রী সবাই আসে কিন্তু কাজ হয় না। কয়েক বছর আগে কিছুটা বাঁধ দিয়েছিল তাতে কোনো কাজ হয়নি। এবার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তাই বাঁধ নির্মাণ করা খুবই জরুরি’Ñ এমনই বললেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়–ড়িয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল খান। কয়েক বছরে তিনি হারিয়েছেন ফসলি জমি, বসতভিটা। এবারের ভাঙনে মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকুও হয়তো হারিয়ে যাবে।
গত কয়েক বছরের নদীভাঙনে এসব গ্রামের কয়েক হাজার বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতবাড়ি হারিয়ে ছিন্নমূল হয়েছে গ্রামের প্রায় আশি ভাগ মানুষ। ২০১২ সালে ভাঙনরোধে কিছু অস্থায়ী কাজ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরোলেও ভাঙন রোধে নেওয়া হয়নি কোনো অস্থায়ী বা স্থায়ী ব্যবস্থা। গত ১০ বছরে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
চলতি মৌসুমে নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোথাও ফসলি জমি, আবার কোথাও বসতভিটা বা মসজিদ ভেঙে যাচ্ছে। অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে পার্শ্ববর্তী জিকে সেচ খালের জমিতে আবার কেউ সব হারিয়ে পাড়ি জমিয়েছে অন্য জেলায়।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান সুজন জানান, ‘স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে আমরা জরুরি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি, গত মার্চে একটি প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস হলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।’
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, ভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের ত্রাণসহ আর্থিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
