ফরিদপুরে আ.লীগের দু’পক্ষে সংঘর্ষ গুলিতে নিহত ২

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৯, ১২:৪৩ এএম

ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষে সংঘর্ষের সময় গুলিতে দুজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের কাইচাইল মধ্যপাড়া দারুল উলুম মাদ্রাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও পুলিশের ভাষ্যমতে, কাইচাইল ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ওরফে ঠা-ুর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ মিয়া ওরফে হৃদয়ের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ওই দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি চলে আসছিল। এর জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত দুজন ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক। তারা

 

 হলেন ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা মৃত আবু বক্করের ছেলের ওশন আলী মিয়া (৫২) ও তার ভাতিজা রায়হান মিয়ার ছেলে তুহিন মিয়া (২৫)।

গুলিতে আহতদের প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসক সাতজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আহত রায়হান উদ্দিন মিয়া (৬৫), আনিস মীর (২০), গোলাম রসুল বিপ্লব (৩০), গোলাম মওলা (৩০) ও আবুল কালাম (৩৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। এছাড়া আনিস মিয়া (২৪), ফারুক মাতুব্বর (৪০), চুন্নু মিয়া (৪৮), সুমন মিয়া (২৮) ও বাবলু মিয়াকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনা নিয়ে দু’পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়া ও তার ভাই হাসান মিয়া একটি মাইক্রোবাসে করে এলাকায় আসে। তারা ওই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কোরবানির আয়োজন নিয়ে পরামর্শরত তার সমর্থকদের গাড়ির মধ্য থেকেই নির্বিচারে গুলি করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তার দুই সমর্থক নিহত এবং আটজন আহত হন। তিনি বলেন, হানিফ মিয়া নিজে শটগান থেকে গুলি করেন।

কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়ার ভাই জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মিয়া বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাছাড়া। শনিবার তিনি ও তার ভাইসহ পাঁচজন একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এলাকায় আসেন কোরবানি দিতে। মাদ্রাসা এলাকায় এলে চেয়ারম্যানের চাচা রওশন, রুস্তম, রায়হান, মাওলা, বিপ্লবসহ ১০-১২ জন লোক তাদের বাধা দেন। তারা গাড়িতে হামলা করে গাড়িটি ভাঙচুর করেন এবং তাদের ওপর কাঠ, লাঠি নিয়ে হামলা করেন। তারাও কাঠ, লাঠি কেড়ে নিয়ে পাল্টা হামলা করেন। এক সময় গুলির ঘটনা ঘটে।

তিনি দাবি করে বলেন, এ সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি, তার ভাই হানিফসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তারা ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হবেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাইচাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত