ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত ভিপি নুর

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ০৪:০১ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিজ শহর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া বাজারে হামলার শিকার হন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নুরকে পিটিয়ে সংজ্ঞাহীন করে ফেলেন।

এর আগে গত রোজায় কয়েক দফায় ভিপি নুরের ওপর হামলা হয়। এসব হামলায় ছাত্রলীগকে অভিযুক্ত করেন তিনি। 

বুধবারের হামলা বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে ঈদুল আজহা উদযাপন করেন ভিপি নুর। বুধবার দশমিনা উপজেলার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। উলানিয়াবাজার থেকে মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভিপি নুরের মোটরসাইকেল আটক করে। এ সময় তাকে একটি স্টিলের দোকানে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে নুর সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হামলার সময় নুরের সঙ্গে ছিলেন হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাহিম। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, হামলার একপর্যায়ে নুরকে ওই দোকানে প্রথমে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। 

খবর পেয়ে পটুয়াখালীর সার্কেল এসপি মু. হাফিজুর রহমান ও গলাচিপা থানার ওসি আকতার হোসেন তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা ভিপি নুরের ওপর এ হামলা চালিয়েছে।

গলাচিপা থানার ওসি আকতার হোসেন নুরের ওপর হামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কিছুসংখ্যক দুষ্কৃতকারী এ হামলা চালিয়েছে। তবে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে এ বিষয়ে ওসি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।

ভিপি নুর কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গড়ে ওঠা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা। এ ব্যানার থেকেই নির্বাচন করে ডাকসুর ভিপি হন নুর।

এ বিষয়ে উলানিয়া বন্দর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল জানায়, নুরের ওপর কোনো হামলা হয়নি। স্থানীয় লোকজন ও নুরের সঙ্গীদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়েছে।  

গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিন শাহ জানান, ১৫ আগস্ট নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার কারণে স্থানীয় লোকজন তাকে চড়-থাপ্পর দিয়েছে। তারা আসলে নুরকে চিনতে পারেনি। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত