জাপানের রোবট ধর্মগুরু

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১০:২৪ পিএম

প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে প্রাচ্যের দেশ জাপান। নিত্যনৈমেত্তিক উপাদান থেকে শুরু করে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপান সফলভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি দেশটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে পৃথিবীর হাজার বছরের ধর্মগুরুকেন্দ্রিক ইতিহাসকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

দেশটির ৪০০ বছর পুরনো একটি মন্দিরে ধর্মগুরু হিসেবে আর মানুষ নয়, রোবট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাপানের মতে, বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রসারের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। সমালোচকরা অ্যান্ডরয়েডের সঙ্গে তুলনা করে ওই রোবট ধর্মগুরুকে বলছেন ‘ফ্রাঙ্কেনস্টেইনের দৈত্য’।

কোয়োটোর কোদাইজি মন্দিরে বৌদ্ধদের করুণার দেবীর নামানুসারে ওই রোবটের নাম রাখা হয়েছে দ্য অ্যান্ডরয়েড ক্যানন। দেশটির অন্য মন্দিরগুলোর ধর্মগুরুদের মতে, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এই রোবট একদিন সীমাহীন জ্ঞান অর্জন করবে।

ধর্মগুরু তেনশো গোতো এএফপিকে বলেন, ‘রোবট কখনো মারা যাবে না। এটা নিয়মিত নিজেদের উন্নয়ন ও বিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাবে। এটাই রোবটের সৌন্দর্য। এটা চিরকাল ও সীমাহীনভাবে জ্ঞান সংরক্ষণ করে রাখতে পারবে। আমার মনে হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে সবচেয়ে বড় ঝামেলাও এড়িয়ে যেতে সহায়তা করবে। এটা বৌদ্ধধর্মকে পাল্টে দিচ্ছে।’

রোবটটি গত বছরের শুরু থেকে তার কাজ শুরু করেছে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ঘাড়, হাত ও মাথা নাড়াতে পারে। এর হাত, মুখ ও কাঁধ মানুষের চামড়ার মতো দেখতে সিলিকন দিয়ে আবৃত। ভক্তদের সামনে হাতজোড় করে নরম স্বরে কথা বলে রোবটটি।

ক্যাননের বা চোখে একটি ছোট ভিডিও ক্যামেরা বসানো আছে। যা দেখতে অনেকটা হলিউডের কল্পকাহিনীনির্ভর চলচ্চিত্রের রোবটগুলোর চোখের মতো। জাপানের বিখ্যাত জেন মন্দির ও ওসামা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোশি ইশিগুরোর যৌথ উদ্যোগে ক্যাননকে তৈরি করা হয়েছে। এটা তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ১০ লাখ ডলার।

জাপানের প্রাত্যহিক জীবনে বৌদ্ধধর্মের রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। ধর্মগুরু গোতো আশা করছেন, নতুন এই রোবট ধর্মগুরু জাপানের তরুণ প্রজন্মকে প্রচলিত ধর্মগুরুদের চেয়ে বেশি কাছে টানতে পারবে। তার মতে, জাপানের তরুণরা বৌদ্ধ মন্দিরগুলোকে শুধু সৎকার ও বিয়ের স্থান হিসেবে জানে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত