ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব সময়ই নিজেকে একজন ঐক্যের পক্ষের ব্যক্তি হিসেবে ইমেজ দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন; বিশেষ করে তিনি সব রাজ্যকে আরও স্বাধীনতা দিতে চান এমন অভিব্যক্তি তার নিত্যকার। কিন্তু গত সপ্তাহে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদে সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত ভিন্ন কিছু বলে।
বিশেষ মর্যাদা বাতিলের কারণে আগামী অক্টোবর থেকে লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত হবে। বিশ্লেষকরা মোদির এমন সিদ্ধান্তকে ভারতের ঐক্যবদ্ধ অবকাঠামোর দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন।
নতুন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরাসরি দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক সুমন্ত্র বসু একে ‘দিল্লির প্রশংসি পৌরসভা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ফলে ভারতের অন্য রাজ্যেও এর প্রভাব পড়বে। ভারতের ঐক্যবদ্ধতার ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এমন সিদ্ধান্ত। ৩৭০ ধারা থাকার ফলে এটা নিশ্চিত ছিল যে, যেসব মানুষ মূলধারা থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করত তাদের জন্য ভারতীয় সংবিধানের একটি নমনীয় অবস্থান ছিল। কিন্তু ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে সংবিধান সেই নমনীয়তা হারাল।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো ফেডারেল ব্যবস্থার দেশগুলোতে ক্ষমতার বিন্যাস হয় সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে। কিন্তু ভারতের মতো দরিদ্র দেশে তা সম্ভব হয় না। তবে ভারতীয় সংবিধান নির্বাচিত ফেডারেল সরকার ও রাজ্য আইনপ্রণেতাদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন আনতে পেরেছে।
ভারতীয় সংবিধান আজ ঐক্যবদ্ধ ব্যবস্থা ও ফেডারেল ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারছে না বলে মনে করেন দিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক ইয়ামিনি আইয়ার। অনেকে আবার ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপটকে ‘ভারতীয় ফেডারেলিজমের সত্যতা’ হিসেবে দেখছেন।
কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই বিশেষ মর্যাদা রদ করার ঘটনা ভারতের গায়ের জোর প্রদর্শনের অনেক নমুনা। ভারতে ফেডারেল সরকার চাইলে রাজ্য সরকারকে বিলুপ্ত করতে পারে। এমন ক্ষমতা প্রদর্শনের ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভারতের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বিরুদ্ধে আইন চ্যালেঞ্জগুলো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে মোকাবিলা করে। সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতার প্রশ্নে বিষয়টি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
