যাত্রীদের অভিযোগ ফিরতি যাত্রায় ভাড়া বেশি

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ১২:৫৪ এএম

কোরবানির ঈদ শেষে রাজধানীতে ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে। ঈদের পর গতকাল রবিবার প্রথম পূর্ণাঙ্গ কর্মদিবস শুরু হয়। এদিন সকাল থেকে রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চঘাটে ঢাকাফেরত মানুষের বেশ ভিড় লক্ষ করা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, পরিবহন সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বাস কোম্পানিগুলো। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট পার হয়ে ঢাকায় আসতে স্বাভাবিকের তুলনায় অন্তত ২০০ টাকা বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক যাত্রী। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে জায়গায় জায়গায় হালকা যানজট থাকলেও এদিন বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়েননি ঢাকাফেরত মানুষ। গত কয়েক দিন দেশের প্রধান দুই ফেরিঘাট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ীতে পরিবহনের চাপে দীর্ঘ ভোগান্তি হলেও গতকাল তা কমতে শুরু করে। দুপুরের পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া অংশে সাত কিলোমিটারের যানজট তিন কিলোমিটারে নেমে আসে বলে দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন। ফলে তিন-চার দিন ধরে পদ্মা পারের অপেক্ষায় থাকা চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়তে শুরু করে ঘাট কর্র্তৃপক্ষ। যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে এসব ট্রাক আটকে রেখেছিল পুলিশ।

গতকাল দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনালে কথা হয় কয়েক যাত্রীর সঙ্গে। তারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে পাটুরিয়া-ঢাকা রুটে ভাড়া ৯০ টাকা হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। ফারহাদউজ্জামান নামে একজন যাত্রী বলেন, ‘যাত্রীদের কল্লা কাটছে। পুলিশকে জানিয়েও প্রতিকার পাইনি।’

একই অভিযোগ পাওয়া গেছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাটেও। এই নৌপথ ব্যবহার করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীরা যাতায়াত করেন। ঈদের এক সপ্তাহ পরও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে ঢাকায় আসতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বিলকিস আক্তার নামে একজন যাত্রী বলেন, ‘ঈদের দুদিন পর দ্যাশে গেছিলাম বেশি ভাড়া দিয়া। আইতেও বেশি ভাড়া লাগতাছে। প্রশাসন নীরব কেন?’

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আক্তার হোসেন আগের কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন প্রস্তুত।’

এদিকে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে গতকাল সারা দিন পদ্মা পারের অপেক্ষায় যাত্রীদের বেশ ভিড় ছিল। তবে ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যাত্রীদের নদী পারে বেশিক্ষণ অপেক্ষাও করতে হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত