সেই জিহাদের স্মৃতিফলক এখন ময়লার ভাগাড়

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৯, ১১:০১ পিএম

২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর দিনটি ছিল তীব্র শীতের। দুপুরের রোদে বাসার পাশের খোলা জায়গায় আরেক বন্ধুসহ খেলছিল শাহজাহানপুর রেল কলোনির চার বছরের শিশু জিহাদ। পরে আর ঘরে ফেরেনি সে। একসময় জানা যায়, কলোনিতে ওয়াসার পাম্প বসানোর জন্য পোতা কয়েকশ ফুট গভীর একটি পাইপের ভেতরে পড়ে গেছে সে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। রাতভর অভিযান চলে। গণমাধ্যমকর্মীরা প্রায় পুরোটা সময়ই সেখানে ভিড় করেছিলেন। টেলিভিশনে সারা দেশের মানুষ দেখে সেই দৃশ্য। দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা চেষ্টার পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ‘পাইপের ভেতর কারও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি’ জানিয়ে দেন। পরে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয় শিশু জিহাদের লাশ।

জিহাদের এ ঘটনার স্মরণে নির্মাণ করা হয় তার ছবি সংবলিত স্মৃতিফলক। তবে রেল কলোনির ৪০ নম্বর গলিতে নির্মিত সেই স্মৃতিফলকটি এখন ময়লার ভাগাড়, স্থানীয় বাসিন্দারা ময়লা আবর্জনা ফেলছেন এই স্মৃতিফলকের পাশেই। জিহাদের পরিবারের দাবি, কলোনি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও বাসিন্দাদের ক্ষোভের কারণে মূলত ফলকের এই হাল।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে রাজধানীর শাহজাহানপুর রেল কলোনির চল্লিশ নম্বর গলিতে দেখা যায় ২০১৪ সালে পারিবারিক উদ্যোগে নির্মিত শিশু জিহাদের স্মৃতিফলকটি পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। কলোনির ডাস্টবিনটি অবৈধ দখলে যাওয়ায় বাসিন্দারা স্মৃতিফলকের পাশেই ফেলছেন ময়লা।

অভিযোগ আছে, একটি মহল স্মৃতিফলকের জায়গাটি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই সেখানে প্রথম দিকে ময়লা ফেলা শুরু করে। 

জিহাদের বাবা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নৈশপ্রহরী মো. নাসির উদ্দিন এক ছেলে জিসান আর এক মেয়ে স্বর্ণাকে (বিবাহিত) নিয়ে সুখেই আছেন। তবে জিহাদকে হারনোর শোক তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় এখনো। ওয়াসা, ফায়ার সার্ভিসের অব্যবস্থাপনার ক্ষোভও রয়েছে তার মধ্যে। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন আছি ভালো, ছেলের কথা মনে পড়ে মাঝে মাঝে। তয় কি করুম? এখন পোলার স্মৃতির জায়গাটাও শেষ, সবাই ময়লা ফেলে। কেউ কেউ আবার দখল করতে চায়।’

ঘটনার কিছু দিন পর তার পরিবার চাপে ছিল উল্লেখ করে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মামলা করার পর আমরা খুব চাপে ছিলাম। এখনো আছি। গত বছর আগস্ট মাসে আমাদের আগের ভাড়া বাসা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত