বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ অভিহিত করে তাকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে তার শাস্তি নিশ্চিতের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আমরা এবং দেশের সাধারণ মানুষ তার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি। তার শাস্তি কার্যকরের মধ্যদিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে।
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বেগম আইভি রহমানের ১৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার কবরে আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর ওই হামলার মামলায় তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান রক্তাক্ত হয়েছিলেন। আমার মনে হয় এরপরেও যদি তাকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া যেত তিনি বেঁচে যেতেন। কিন্তু অসহযোগিতার কারণে তার সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেওয়া যায়নি। তিনি বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় দিয়েছে আদালত। এখন ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হবে। এই হামলার যে মাস্টারমাইন্ড (তারেক রহমান) তার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করব। আমাদের ইচ্ছে, জনগণের ইচ্ছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার যে মাস্টারমাইন্ড তার সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।
ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। আমরা সব বাধা অতিক্রম করেই আজ এখানে এসেছি। এ ঘটনার যে মাস্টারমাইন্ড তার শাস্তি নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। আইভি রহমানের স্মৃতিচারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি এভাবে চলে যাবেন আমরা কখনো ভাবিনি। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধুনিকতম নারীনেত্রী। যাকে কখনো আমরা সভামঞ্চে দেখতাম না। সব সময় তার নারী সহকর্মীদের নিয়ে মঞ্চের নিচে বসতেন। সেদিনও তিনি সভা শেষে সবাইকে নিয়ে মিছিলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের জীবনসঙ্গিনী ছিলেন তিনি। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আন্দোলন-সংগ্রামে আইভি রহমান সবসময় আমাদের নেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছেন। আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
