ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে দুর্নীতির মামলাগুলো পরিচালনায় জটিলতা কাটাতে সাক্ষ্য আইন সংশোধন জরুরি বলে মনে করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, সাইবার দুর্নীতি দমনে বিচারিক কার্যক্রমে ইলেকট্রনিক রেকর্ডকে সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যে আইনটি যুগোপযোগী করতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে দুদক। গতকাল শনিবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (এনআইএস) ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়নবিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়নে দুদকের করণীয় নিয়ে কর্মশালায় পেপার উপস্থাপন করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব খন্দকার সাদিয়া আরাফিন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাদের কর্মস্পৃহা আরও বিকশিত হয় এবং নতুন উদ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধে নিজেদের দৃঢ়ভাবে আত্মনিয়োগ করেন।’
দুর্নীতি প্রতিরোধে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে কর্মকর্তারাই মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন। তাই মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রতিরোধে নিবিড়ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ কাজে স্থানীয় জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য বিভাগ বা সংস্থার সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তাদের সহযোগিতা নিয়ে সমন্বিতভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। কমিশন নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষের প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সবাই একই ছাতার ছায়ায় থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেবেন।’
ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুদক প্রতিরোধ অনুবিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি টাইম-বাউন্ড কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি মনিটরিং এবং ইভালুয়েশন করতে হবে। কারণ দুর্নীতি প্রতিরোধ দুদকের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি ম্যান্ডেট।’
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদক সীমিত সাধ্যের মধ্যেও প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকশিত করার লক্ষ্যে বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উত্তম চর্চার বিকাশে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের স্বল্প সময়ের জন্য হলেও এ জাতীয় উত্তম চর্চামূলক কাজে নিয়োজিত রাখছে। অন্ততপক্ষে এই ২৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই কমিশন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর গঠন করছে।’
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, ‘দেশের সরকারি প্রতিটি ওয়েবসাইটে দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রের টোল ফ্রি হটলাইন প্রদর্শিত হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবও তৈরি করা হচ্ছে, যা দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।’
দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলওয়ার বখত বলেন, ‘শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে দুদক দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ ছুটির দিনে আইসিটি বিভাগের সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ কর্মশালা সফল হওয়ায় কমিশনের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
কর্মশালায় দুদকের আটটি বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ও ২২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকরা অংশ নেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন দুদকের প্রতিরোধ অনুবিভাগের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, প্রশিক্ষণ ও আইসিটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল।
