রুপা হত্যার ২ বছর: রায় কার্যকরের দাবিতে পরিবারের মানববন্ধন

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০৯:০৮ পিএম

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামের বহুল আলোচিত টাঙ্গাইলের মধুপুরে জাকিয়া সুলতানা রুপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে রুপার পরিবার তাড়াশ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

বুকে কালো ব্যাচ ধারণ করে আসামিদের দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবিতে তারা এ মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

রুপার মা হাসনা হেনা বেগম (৫৭) জানান, রুপা তার ভাই-বোনদের জন্য সবকিছু করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করত। স্বপ্ন দেখতো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একদিন বড় কর্মকর্তা হবে। এখন একটাই দাবি দ্রুত আসামিদের রায় কার্যকর করা হোক।

রুপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। এরপর গত ১৯ মাসেও চাঞ্চল্যকর এ মামলায় শুনানি শুরু হয়নি। নিম্ন আদালতে দ্রুততম সময়ে মামলার রায় ঘোষণায় আমরা সন্তুষ্ট হয়ে ছিলাম। তবে উচ্চ আদালতে আসামিদের আপিলের পর মামলাটি গত দেড় বছর ঝুলে থাকায় আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছোঁয়া পরিবহনের বাসটি পরিবারকে দেওয়ার যে আদেশ আদালত দিয়েছেন, তাও কার্যকর করা হয়নি। বিচারের সর্বশেষ পর্যায়ে যেতে কতদিন সময় লাগবে তা আমাদের জানা নেই। ততদিনে হয়তো বাসটি ভাঙাড়ি হিসেবে বিক্রি করতে হবে। এতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশাও ক্ষীণ।

রুপার মায়ের সাথে মানববন্ধনে অংশ নেয় রুপার ছোট ভাই উজ্জ্বল হোসেন ও তার স্ত্রী  টুম্পা খাতুন।

উল্লেখ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলের রাস্তার পাশে থেকে রুপার লাশ উদ্ধার করে মধুপুর থানা পুলিশ। পরিচয় না পেয়ে ২৬ আগস্ট ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হয়েছে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এরপর ২৭ আগস্ট নিহতের বড়ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় রক্তাক্ত লাশের ছবি শনাক্ত করেন যে, অজ্ঞাত যুবতিটি তার ছোট বোন ও ঢাকা আইডিয়াল ল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপার। ৩১ আগস্ট রুপার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঐদিন রাতেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসামবাড়ি গ্রামের কবরস্থানে রুপার লাশ দাফন করা হয়। নিহত রুপা ওই গ্রামের মৃত জেলহাজ প্রামাণিকের মেয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত