ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের সময় প্রতিদিন কমছে। যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগামী ৩১ অক্টোবরেই ব্রেক্সিট করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নিজের অবস্থানের পক্ষে নতুন ব্রেক্সিট পরিকল্পনাও প্রস্তুত করেছেন তিনি। কিন্তু তার এই পরিকল্পনার পেছনে আছেন এক রাজনৈতিক প্রতিভাধর ব্যক্তি।
প্রতিভাধর এই ব্যক্তির নাম প্রতিদিন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন পত্রিকার পাতায় দেখা যায়। অনেকেই বিশ্বাস করেন, ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে আছেন এই ব্যক্তি। তার নাম ডমিনিক কামিংস, জনসন সরকারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা তিনি। আনুষ্ঠানিক ব্রেক্সিট ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র যদি হন বরিস জনসন, তবে এর পেছনের মস্তিষ্ক হলো কামিংস।
এই উপদেষ্টার হাত ধরেই এসেছে ‘টেইক ব্যাক কনট্রোল’র মতো সেøাগান। তিনিই প্রথম দেখান যে, প্রতি সপ্তাহে ব্রাসেলসকে যুক্তরাজ্য ৪২৪ মিলিয়ন ডলার পাঠাচ্ছে। রাজনীতিতে বহিরাগত থাকা কামিংসই এখন জনসনের পরিকল্পনার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
যুক্তরাজ্যের অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও কামিংসের সাবেক সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে সিএনএন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের সবাই সম্মত হন যে, এই মুহূর্তে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষ ডমিনিক কামিংস। তার একার মাথা থেকে বের হওয়া পরিকল্পনারই জের টানতে হচ্ছে যুক্তরাজ্যের জনগণকে। ইইউ ত্যাগ করার ক্যাম্পেইন সফল হয়েছে, এমন বক্তব্য প্রায়ই দিতে দেখা যায় কামিংসকে।
লেবার পার্টির সাবেক আইনপ্রণেতা গিজেলা স্টুয়ার্ট বলেন, “কাজের প্রতি কৌশলগতভাবে তার একাগ্রতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তার প্রিয় উক্তি হলো, ‘আগাছাতে যেন পা আটকে না যায়’।” ৪৭ বছর বয়সী কামিংসকে সবসময় শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের সঙ্গে দেখা যায়। গোটা জীবনই তিনি কনজারভেটিভ পার্টির রাজনীতি ও থিংকট্যাংক হিসেবে কাজ করেছেন।
কামিংসের আচরণ বিভেদ সৃষ্টি করে এমন মন্তব্য করেছেন তার কিছু সহকর্মী। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সাবেক আইনপ্রণেতা ডেভিড লস কামিংসকে ‘এ গ্রেডের রাজনৈতিক কুকুরছানা’ বলে অভিহিত করেন। তবে এসব মন্তব্য নিয়ে কোনোদিন কোনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি কামিংসকে।
