এক বছর না পেরোতেই নারায়ণগঞ্জে ফেরি বন্ধ

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৯, ১০:৪১ পিএম

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর উদ্বোধন করা ফেরি সার্ভিসের পন্টুনটি এখন পানির নিচে। ২০১৮ সালের ২১ আগস্ট শহর ও বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে দুটি ফেরি সার্ভিস উদ্বোধন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান ৫নং ঘাট থেকে বন্দর ঘাট পর্যন্ত ফেরি চালু করেন। মাত্র এক বছরের মাথায় সেই ফেরির পন্টুন শীতলক্ষ্যায় ডুবে যাওয়ায় স্বপ্নের ফেরি এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, নদীপথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় দ্রুত নদী ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বাজার এবং শিল্পকারখানা। এই নদীর আশীর্বাদে অল্প সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে এই শহর। নদীর দুই ধারেই বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও পরবর্তীকালে সড়কের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অব না.গঞ্জে স্বপ্নের ফেরির পন্টুন

এখন পানির নিচে

কাঠামোগত সুবিধা থাকায় নারায়ণগঞ্জ শহরকেন্দ্রিক অফিস-আদালত, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শহর এলাকায় নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হয়নি শীতলক্ষ্যার বুকে।

ফলে শহর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন শীতলক্ষ্যার পূর্বপাড়ে থাকা বন্দরবাসী। কিন্তু গত বছরের ২১ আগস্ট ফেরি চালু হলেও সেই ফেরিও এখন দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্দরবাসীর জন্য। নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ এবং ৫নং ঘাট-নবীগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত দুই জায়গায় ফেরি উদ্বোধন করলে এক বছর না পেরোতেই বন্ধ হয়ে গেছে ৫নং ঘাটে ফেরি চলাচল।

অপরদিকে নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ঘাটের অবস্থাও করুণ। ২৬ আগস্ট সরেজমিনে ৫নং ঘাটে গিয়ে দেখা যায় ফেরির কোনো চিহ্ন নেই। পন্টুন পুরোপুরি নদীতে ডুবে গেছে। পানির নিচে থাকা পন্টুনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে তাই পতাকা লাগানো হয়েছে। এছাড়া আর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি। নবীগঞ্জ ঘাটে ফেরি চলাচল অব্যাহত থাকলেও এর অবস্থা করুণ। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই ফেরিতে ওঠার রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। যে কারণে এবড়ো-খেবড়োভাবে ইট ফেলে রাস্তা উঁচু করা হয়েছে। যে কারণে ফেরিতে গাড়ি ওঠা-নামায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বন্দরের বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, ‘মালামাল নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করতে অনেক কষ্ট হয়। দুইটা ফেরি ছিল, সেখানে এখন একটাও নেই। তাছাড়া পন্টুনটাও ডুবে গেছে। আর মনে হয় না এই জায়গায় ফেরি চলব।’

৫নং খেয়াঘাটের ইজারাদার মনির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সময় বেশি লাগে তাই যাত্রী কম হতো এখানে। পরবর্তীকালে ফেরিতে লাভ না হওয়ায় নবীগঞ্জ ঘাটের ফেরি নষ্ট হলে এখান থেকে ফেরি নিয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য ফেরির দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহমান শেখের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত