না.গঞ্জে ইমামকে গলা কেটে হত্যা করে আরেক ইমাম

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ০৩:০৪ এএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মল্লিকপাড়া এলাকার নারায়ণদিয়া বায়তুল জালাল জামে মসজিদের ইমাম দিদারুলকে গলা কেটে হত্যা করেন তারই পরিচিত অন্য একটি মসজিদের ইমাম ওহিদুর রহমান। তিনি মাদারীপুরের শিবচর এলাকার একটি মসজিদে ইমামতি করেন। পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় দিদারুলকে হত্যার পর ওহিদুর একটি চিরকুট লিখে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাওহীদকে। দিদারুল হত্যা মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ গতকাল বুধবার ভোরে শিবচর থেকে ওহিদুরকে গ্রেপ্তারের পর দিদারুলকে হত্যার বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকারও করেছেন। এদিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ তার সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

এর আগে দিদারুল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি এবং ওহিদুরের রক্তমাথা জামাকাপড়সহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে দিদারুল হত্যায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ। গ্রেপ্তার ওহিদুর নড়াইলের নড়াগাতীর কলাবাড়িয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।

পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, স্বর্ণের বার কিনে দেওয়ার কথা বলে ওহিদুর বেশ কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন দিদারুলের কাছ থেকে। পরে স্বর্ণের বার না দেওয়ায় দিদারুল তার টাকা ফেরত চেয়ে ওহিদুরকে চাপ প্রয়োগ করলে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এরই জের ধরে দিদারুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ওহিদুর। দিদারুলকে হত্যা করলে তাকে আর টাকা ফেরত দিতে হবে না এই উদ্দেশ্যে শিবচর থেকে একটি চাপাতি কেনেন তিনি। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে গত ২১ আগস্ট মধ্যরাতে দিদারুলের সঙ্গে দেখা করেন ওহিদুর। একপর্যায়ে তিনি ঘুমের ট্যাবলেট মেশানো কোকাকোলা খাইয়ে দিদারুলকে অচেতন করেন। পরে সঙ্গে থাকা চাপাতি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। এরপর নিজের রক্তমাখা জামাকাপড় খুলে পাশের পুকুরে ফেলে দিয়ে এবং মসজিদের অজুখানায় গোসল করে রাজধানীর মিরপুর হয়ে মাদারীপুর পালিয়ে যান ওহিদুর।

পুলিশ সুপার হারুন বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়ার আগে নিজেকে বাঁচাতে এবং হত্যাকাণ্ডটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ওহিদুর দিদারুলের ব্যবহৃত একটি খাতায় লিখে রেখে যান যে সে (দিদারুল) হিযবুত তাওহীদের সদস্য। আমাদের দল থেকে অস্ত্র ও টাকা নিয়ে সে পালিয়ে এসেছে। তাই তাকে আমরা মেরে ফেলেছি। খাতাটি দিদারুলের লাশের সামনে ওহিদুর ফেলে রেখে যায়, যাতে পুলিশ বিভ্রান্ত হয়। তবে এই বিষয়টিই পুলিশের তদন্তকে আরও বেগবান করেছে।’

পুলিশ সুপার জানান, ২২ আগস্ট সকালে খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ মসজিদের ভেতর থেকে দিদারুলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মিজানুর রহমান সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। পরে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মসজিদের পাশের পুকুর থেকে রক্তমাখা পোশাক ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার হলে পুলিশ ঘাতককে শনাক্তের চেষ্টা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় শিবচর থেকে ওহিদুরকে গ্রেপ্তার করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দিদারুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত