ব্রেক্সিটের শেষ সময়সীমার কয়েক সপ্তাহ আগে সংসদ স্থগিতের পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। বুধবার ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই আবেদন করেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে দেশজুড়ে।
রানির অনুমোদন অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ কার্যকরের পথ সুগম করতে সংসদ অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন বরিস জনসন।
বরিসের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিরোধীরা। তারা একে ‘একনায়কতন্ত্র’সুলভ আচরণ বলে আখ্যায়িত করেন।
রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে বরাবর নিরপেক্ষ থাকা স্পিকারও বেজায় চটেছেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকো এ সিদ্ধান্তকে ‘সাংবিধানিক অরাজকতা’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের গণতন্ত্রকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছেন।”
টরি পার্টির সাবেক চ্যান্সেলর ফিলিপ হ্যামন্ডও একে অগণতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করেছেন। লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা জো সুইনসন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এমপিদের কথা বলার সুযোগে বাধা দিয়ে আসলে জনগণেরই কণ্ঠরোধ করছেন।”
সবচেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে বিরোধী দল এসএনপি নেত্রী ও স্কটল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নিকোলা স্টারজনের কাছ থেকে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী একটা স্বৈরশাসকের মতো আচরণ করছেন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট বার্তায় জনসনকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, যুক্তরাজ্য যে সমাধান খুঁজছে বরিস সেই আলোকে কাজই করছেন।
এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় ওয়েস্ট মিনিস্টারের সামনে ব্রেক্সিট বিরোধী প্ল্যাকার্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন অনেকে।
শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে অনেকে দাবি করেন, পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত আসলে অস্থিরতার শুরু। সপ্তাহান্তে এই বিক্ষোভ আরও জোরদার হবে।
ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তের এক দিনের কম সময়ে সরকারি ওয়েবসাইটে এক ই-পিটিশনে স্বাক্ষর পড়েছে ১০ লাখেরও বেশি।
এর আগে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর হুমকি দিয়েছেন কয়েকজন ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব। এর মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর। বুধবারের ঘোষণাকে ‘সার্বভৌম সংসদকে অবহেলা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থায় যাবেন তিনি। স্কটল্যান্ডের শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যে সংসদ স্থগিতকরণকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
এদিকে বলা হচ্ছে, রানির বিশেষ ক্ষমতাকে আইনিভাবে মোকাবিলা সম্ভব নয়। তবে ব্রেক্সিট-বিরোধী প্রচারক জিনা মিলার এর আগে আর্টিকেল ৫০ দ্বারা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জেতেন। তার মতে, সংসদ স্থগিতের বিষয়টি সংসদের সার্বভৌমকে খর্ব করে, তাই এটি বেআইনি ও অসাংবিধানিক। সে ক্ষেত্রে আইনি লড়াই সম্ভব।
‘ব্রিটেন এক্সিট’কে সংক্ষেপে বলা হয় ব্রেক্সিট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া এটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ একে অন্যের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারে, নাগরিকেরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পারে এবং সেখানে বসবাস করতে পারে।
প্রায় ৪০ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালের জুনে একটি গণভোট আয়োজন করে যুক্তরাজ্য। অধিকাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দেন।
এই ভোটের পর সেখানকার রাজনীতি রীতিমতো এলোমেলো হয়ে গেছে। ক্ষমতা হারাতে হয়েছে থেরেসা মে’কে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিসও থেরেসার মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে অনড়।
