১৪ বছর আগে যৌতুকের জন্য রাজধানীর বাড্ডায় এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক খাদেম উল কায়েস গতকাল বৃহস্পতিবার আসামি সাইদুর রহমান মিল্টনের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি মিল্টনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। রায়ের বিবরণে বলা হয়, ২০০৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মধ্য বাড্ডা আদর্শনগর এলাকায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শারমীন আকতার হিয়াকে যৌতুকের দাবিতে গলাটিপে হত্যা করেন তার স্বামী মিল্টন। ঘটনা জানতে পেরে এক প্রতিবেশী হিয়ার স্বজনদের টেলিফোনে খবর দেন।
ওই ঘটনায় হিয়ার চাচা থানায় মামলা করেন। সেখানে বলা হয়, হিয়ার কথা ভেবে তার পরিবার মিল্টনকে ২ লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছিল। তারপরও মিল্টনের ভাইসহ পরিবারের অন্যারা আরও টাকার জন্য হিয়াকে চাপ দিয়ে আসছিল। বিয়ের সময় দেওয়া হিয়ার ২০ ভরি সোনার গহনাও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিক্রি করে ফেলে। মামলা হওয়ার পর থানায় আত্মসমর্পণ করে হিয়ার স্বামী মিল্টন। পরে আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেয়।
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জনের সাক্ষ্য শুনে আদালত মিল্টনের সর্বোচ্চ সাজার রায় ঘোষণা করে।
