নরওয়ের ‘মৃত্যুঝাঁপ’

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৯, ১২:১০ এএম

নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মধ্য আগস্টে জড়ো হয়েছিল প্রায় ৪০ জন ডাইভার। অলিম্পিকের মতো জমকালো না হলেও নরওয়ের এই ডাইভিং প্রতিযোগিতা নিশ্চিতভাবেই গায়ের রোম খাড়া করে দেয়। স্থানীয় পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতাকে বলা হয় ‘ডড ডাইভিং’ বা ‘মৃত্যুঝাঁপ’।

মাত্র ১০ মিটার উঁচু এক টাওয়ার থেকে পানিতে ঝাঁপ দিতে নরওয়ের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসে অসলোর ফর্গনারবাদেত সুইমিং পুলে। তবে আগত ডাইভারদের মধ্যে কেউই প্রশিক্ষিত ডাইভার নন। তাদের কেউ পেশিবহুল শরীরের, কারও সারা শরীরে ট্যাটু আঁকা অথবা হিপ্পি কেউ।

১৯৭২ সালের দিকে গুটি কয়েক তরুণ এই ঝাঁপ দেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু করেছিলেন। তবে তখন তাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রিয় নারীর কাছে নিজের পৌরুষত্ব প্রমাণ করা। ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝাঁপ দেওয়ার সময় বিন্দুমাত্র ভুলে প্রাণ-সংশয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝাঁপ দিতে গিয়ে অনেকের হাত-পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা আছে।

কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনায় অনেক দিন এই প্রতিযোগিতা বন্ধ ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের দিকে নরওয়ের একদল তরুণ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করে। সেবারই প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতায় গুয়াতেমালা থেকে এক তরুণ অংশ নেয়। তবে এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন চারজন বিদেশি। তারা সুইডেন, স্পেন, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ড থেকে আসা। সুইডেন থেকে আসা ২২ বছর বয়সী ডাইভার মিরিয়াম হ্যামবার্গ এএফপিকে বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় ঝাঁপ দেওয়ার জন্য ওই উঁচু জায়গায় ওঠার পর হঠাৎ করেই সব ভয় চলে যায়। মনে হয় আমি যা ইচ্ছে তাই করতে পারব।’ দুই বছর ধরে প্রতিযোগিতায় নারীদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রতিযোগিতার শুরু হয়েছিল মর্টেন ফ্লাতেঙের হাত ধরে। তিনি বলেন, ‘এই কাজে বেশ সাহস লাগে। নতুন কিছু করতে চেয়েছিলাম আমরা। আমাদের সঙ্গে তখন পাঁচজন মেয়ে থাকত, যারা আমাদের ঝাঁপ দেওয়া দেখতে আসত।’ ঝাঁপ দেওয়ার দুই ধরনের নিয়ম আছে। প্রচলিত নিয়মে ঝাঁপ দেওয়ার পর পানিতে দেহ স্পর্শ হওয়ার আগে দুই হাত দুই পাশে খোলা রাখতে হয়। পানির কাছাকাছি আসার ঠিক আগ মুহূর্তে হাত গুটিয়ে পুরো শরীর অনেকটা চিংড়ি মাছের মতো করতে হয়। আর দ্বিতীয় ধরনে, প্রতিযোগিতা শূন্যের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক কসরত দেখান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত