‘মুক্ত হওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে মিন্নি’

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৯, ০৪:৫৩ পিএম

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া তারই স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে কারাগারে দেখা করে জামিন ও হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে অবহিত করে তাকে সতর্ক করেছেন তার আইনজীবী।

আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা জেলা কারাগারে মিন্নির সঙ্গে দেখা করেন।

পরে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, মিন্নির সাথে দেখা করে দুটি বিষয় তাকে জানানো হয়েছে। মুক্ত হওয়ার পর মিন্নি যাতে কোন গণমাধ্যমে কথা না বলেন। এছাড়াও হাইকোর্ট মিন্নির জামিন দিলেও দাপ্তরিক কাজ শেষে রিলিজ অর্ডার পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে বলে মিন্নিকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

এসম তিনি বলেন, মিন্নি মুক্ত হওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। হাইকোর্টে তাকে জামিন দিলেও মিন্নির মুক্ত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। দাপ্তরিক সকল কাজ গুছিয়ে জেল খানায় রিলিজ অর্ডার পৌঁছালেই তার মুক্তি দেবে কারাগার। তবে এ জন্য যাতে মিন্নি হতাশ না হয় সে বিষয়ে তাকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। খুব শিগগিরই মিন্নির সকল দাপ্তরিক কাজ গুছিয়ে জেল খানায় রিলিজ অর্ডার পৌঁছাবে বলেও তিনি আশাবাদী।

রাষ্ট্রপক্ষ মিন্নির জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে আপিল করলে তার মুক্ত হওয়ায় কোন জটিলতা তৈরি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালত যে কোন সময় যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আদালত চাইলে মিন্নির জামিন আবেদন বহাল রাখতে পারে, আবার স্থগিতও করতে পারে, বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের ওপর নির্ভর করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মিন্নির জামিন আদেশ দেন। আদালতে মিন্নির জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।

বৃহস্পতিবারের রায়ে আদালত বলেন, জামিনে থাকা অবস্থায় মিন্নি তার বাবার জিম্মায় থাকবেন। এই সময় তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এর ব্যত্যয় ঘটলে জামিন বাতিল হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে স্ত্রী মিন্নির সামনে রিফাত শরীফ খুন হওয়ার পরদিন ১২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এরই মধ্যে এ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। পরে নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ অভিযোগ করেন, মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের সম্পর্ক ছিল এবং তার ছেলে হত্যায় পুত্রবধূ মিন্নিরও সংশ্লিষ্টতা ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুলাই সকালে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যায় রিফাত হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে মিন্নিকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

রিমান্ডে নেওয়ার পর ১৯ জুলাই পুলিশ জানায়, রিফাত হত্যার সংশ্লিষ্টতায় মিন্নি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে বাবা মোজাম্মেল হোসেন দাবি করেন, জবরদস্তি ও তড়িঘড়ি করে মিন্নির কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত