আসামের পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানে আছে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো। নাগাল্যান্ড, মেঘালয় ও মিজোরামের রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরা রাজ্যের প্রবেশমুখগুলোতে পাহারা বসিয়েছে, যাতে আসামে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা প্রবেশ করতে না পারে। গতকাল মঙ্গলবার দ্য হিন্দুর এক রিপোর্টে বলা হয়, মেঘালয়ের পশ্চিমের খাসি পার্বত্য এলাকায় গত সোমবার স্থানীয় খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ) অন্তত ২৬ জন আদিবাসী নয় এমন ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। শনাক্তকৃত ব্যক্তিদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
কেএসইউ নেতা ওয়ানভাকুপার এল নোংলাইত স্ক্রলডটইনকে বলেন, ‘কিছু শ্রমিক জানায় যে তাদের নাম এনআরসিতে রয়েছে। কিন্তু আমরা তাদের কাছে কোনো নথি পাইনি। কারখানার ম্যানেজার আমাদের নিশ্চিত করেছে যে আদিবাসী নয় এমন শ্রমিকদের আসামে ফেরত পাঠানো হয়। যারা নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবে, তারাই কেবল কাজ করতে পারবে।’ নোংসতইনের একটি কারিগরি স্কুলে এনআরসি নথিহীন চার আদিবাসী নয় এমন ব্যক্তিকেও পেয়েছে কেএসইউ।
দ্য ফেডারেশন অব খাসি জৈন্তা গারো পিপল এবং দ্য হান্নিয়েত্রেপ ইয়ুথ কাউন্সিল নামের দুই রাজনৈতিক সংগঠনও আসাম থেকে এনআরসি নথিহীন ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ওয়েলবার্থ রানি বলেন, ‘আসামে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশে কখনোই ফিরে যাবে না। তারা পাশের রাজ্যগুলোতে প্রবেশ করবে। এ ক্ষেত্রে তাদের জন্য স্বর্গরাজ্য হবে মেঘালয়। স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে মিলিতভাবে আমরা অবৈধ অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে সহায়তা করছি।’ দ্য নাগা স্টুডেন্টস ফেডারেশনও বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট নিনোতো আওমি এবং সাধারণ সম্পাদক লিরেমো কিকন জানান, আসন্ন দিনগুলোতে আসাম থেকে বহু মানুষ প্রবেশ করবে এমন আশঙ্কা করছেন তারা। রাজ্যের আদিবাসী-অধ্যুষিত সমাজের জন্য আসাম থেকে আসা নথিহীন মানুষদের হুমকি হিসেবে দেখছেন তারা।
এনআরসির মাধ্যমে আসাম থেকে মুসলিমদের তাড়াতে চেয়েছিল ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গত সোমবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন অভিযোগ করেছেন আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা তরুণ গগৈ।
এনআরসি নিয়ে তরুণ গগৈ বলেন, ‘ওরা একবার বলছে এনআরসি’র কথা, একবার বলছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা। ওরাই চায়নি যে একটা ঠিকঠাক এনআরসি প্রকাশিত হোক। কারণ, ওরা মুসলিমদের তাড়াতে চেয়ে এটা করেছিল। কিন্তু মুসলিমদের নাম থাকল আর হিন্দুদের নামই বাদ চলে গেল। এবার ওদেরই খুঁজে বের করতে হবে, এর জন্য কারা দায়ী।’
আসামে ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তরুণ গগৈ বলেন, ‘আমরা মুসলিম তোষণ করে তাদের ভোটে ক্ষমতায় থেকেছি, এই অভিযোগ তো আমার বিরুদ্ধেই উঠেছে। কিন্তু মোদি এখানে এসে কী বলেছেন? বলেছেন, এখানে লাখ লাখ মুসলিম আছে, যারা এখানে এসে আসামীয়দের ভাত কেড়েছে, জমি কেড়েছে, চাকরি কেড়েছে। আমরা ক্ষমতায় এলে এদের ফেরত পাঠিয়ে দেব। এখন কী প্রমাণিত হলো? এটাই প্রমাণিত হলো যে এদের মুখে হিন্দুত্বের বুলি শুধুই ক্ষমতার জন্য, হিন্দুদের ভালোর জন্য নয়। তাহলে ওরা হিন্দুদের চাকরি নিশ্চিত করত। তা পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, যে হিন্দু বাঙালিরা ভোট দিয়ে ওদের এনেছিল (বিজেপিকে), তাদের বেশির ভাগের নাম নেই। হিন্দিভাষী, গোর্খা, মুসলিম অনেকেরই নাম নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই নাম বাদ যাওয়ার তালিকায় সংখ্যাগুরু অংশই হিন্দু বাঙালি। প্রকৃত নাগরিক খুঁজতে হিন্দুবিরোধ, মুসলিমবিদ্বেষ বা খ্রিস্টান বিরোধিতা করলে চলবে না।
