গাজীপুর মহানগরীর রাজদীঘির উত্তরপাড় এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চাপাতি দিয়ে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত নুরুল ইসলাম (১৪) স্থানীয় পাখি বিক্রেতা ফকির আলীর ছেলে। তারা উত্তর রাজবাড়ী এলাকার ফরিদ আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া। তাদের বাড়ি শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার ভায়াডাঙ্গা (ভাগাতা) গ্রামে।
নিহতের বড় ভাই রাজন জানান, জয়দেবপুর এলাকার সাহাপাড়ার কিশোর রানা (১২) রাজদীঘির উত্তরপাড়ে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিল। এ সময় স্থানীয় সাজন (১৭) রানাকে শাসায়। এতে রানা ক্ষিপ্ত হয়ে তার এলাকার কয়েকজন কিশোরকে নিয়ে সাজনকে মারার উদ্দেশ্যে ওই স্থানে আসে।
এ সময় সাজন ও নুরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। কয়েকজন কিশোর চাপাতি হাতে তাদের দিকে তেড়ে আসছে দেখে তারা দৌড় দেয়। সাজন দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে এক বাড়ির একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। হামলাকারীরা ওই কক্ষের দরজা-জানালা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কাটার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তবে নুরু দৌড়ে পালানোর সময় রাজদীঘিতে লাফিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা নুরুকে পানি থেকে তুলে চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কোপায়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী এগিয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে নুরুকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার এসআই লিয়াকত আলী জানান, নিহত কিশোর নুরুল ইসলাম শহরে ফেরি করে চা বিক্রি করত। গতকাল দুপুরের খাবারের পর বেলা ৩টার দিকে বাড়ির পাশে রাজদীঘিরপাড়ে যায় সে। এ সময় ৪-৫ জন কিশোর চাপাতি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
থানার ওসি এজাজ শফি জানান, এলাকার কিশোরদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বিরোধের জেরে ওই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে পাওয়া গেছে। কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রয়েছে।
