বাইক্কার বিলে একবেলা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৪১ এএম

বর্ষায় বাইক্কার বিল যেন পূর্ণ যৌবনা । সকাল থেকেই শ্রীমঙ্গলের পথে প্রান্তরে ঘুরছি। লাউয়াছড়া বন দেখে এখনকার গন্তব্য বাইক্কার বিল। একটু পর পর অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে। চলছি তো চলছি- পথ যেন আর শেষ হয় না। গাড়ি থামল একটা রেস্তোরাঁর সামনে। নাম বাইক্কা বিল রেস্টুরেন্ট । মনে মনে খুশি হলাম এই বুঝি চলে এসেছি বাইক্কা বিলে। ড্রাইভার বলল, বাইক্কা বিল আরও ভেতরে। যাই হোক আমরা রেস্টুরেন্টে খাওয়া শেষ করে আবার গাড়িতে বসলাম।

হাইল-হাওরটি বর্ষায় ১৪ হাজার হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত হয়। হাইল হাওর এলাকার ৬০টি গ্রামের ৩০ হাজার বসতবাড়িতে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার মানুষ বসবাস করে। দেখতে দেখতে পৌছলাম বাইক্কার বিলে। বিলের প্রবেশমুখে বড় নামফলকের দেখা পেলাম। বাম দিক ধরে হাঁটলে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার এক কিলোমিটারের মতো । আর ডান দিক ধরে হাঁটলে ১০০ মিটার দূরে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।

আমরা বাম দিক ধরেই এগিয়ে গেলাম। অসাধারণ পরিবেশ। চারপাশে পাখিদের ডাকাডাকি। বুনোফুলের গাছের ভেতর দিয়ে সরু সিঁথির মতো কাঁচা মাটির পথ পেরিয়ে পৌছে গেলাম বাইক্কার বিলের ওয়াচ টাওয়ারে। বামে সবুজে ঘেরা পানি, ডানেও পানি । মাঝে সরু রাস্তা। হাইল হাওরের প্রাণ বাইক্কার বিল । ‘বাইক্কার বিলে গড়ে তোলা হয়েছে মাছ ও পাখির স্থায়ী অভয়াশ্রম। বাইক্কার বিলে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলায় দেশের বিলুপ্ত প্রায় গইন্না, কালিবাউস, দেশি সর পুঁটি, পাবদা, আইড়, গুলশা, চিতলসহ ২০ প্রজাতির মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে।

এখানে নানা জাতের মাছের সঙ্গে রয়েছে হাজারো কচুরিপানা, শাপলা আর পদ্মফুল। বিলের উল্লেখযোগ্য পাখি- পানকৌড়ি, কানিবক, ধলাবক, গোবক, ধুপনিবক, রাঙ্গাবক, দলপিপি, নেউপিপি, পানমুরগি, বেগুনিকালেম, কালো মাথা কাস্তে চরা, শঙ্খচিল, পালাসি, কুড়া, ঈগল। দেখতে পেলাম  বিলের পানিতে রঙিন ফড়িংয়ের বিরতিহীন ভাবে ওড়াউড়ি। বিলের পানিতে ফুটে আছে শাপলা আর নীলপদ্ম।

দূর থেকে খুব ভালো লাগছিল। ওয়াচ টাওয়ারে রয়েছে বাইক্কার বিলে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের নাম এবং তাদের বর্ণনা। আমরা সেগুলো দেখতে লাগলাম। ওয়াচ টাওয়ারে বেশ কিছু সময় থেকে আমরা গেলাম নৌকা ভ্রমণে।  হাওরের পানিতে নৌকায় ঘুরে বেড়ালাম বেশ কিছুটা সময়। সুর্য ডুবছে।  সন্ধ্যা নামতে নামতে আমরা ফিরে চললাম নিজেদের গন্তব্যে।

যাওয়ার উপায়

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে পৌছাবেন? সেটা বাসেও হতে পারে কিংবা ট্রেনে। আপনি যদি মৌলভীবাজার থেকে আসেন তাহলে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল মহাসড়কে ভৈরবগঞ্জ বাজারের প্রায় আধ কিলোমিটার দূরে বাইক্কার বিল পৌঁছানোর নির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ড আপনার ডান দিকে পড়বে। আর ঢাকা থেকে এলে বাঁয়ে পড়বে। শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোড থেকে সিএনজি অটোরিকশা আপডাউন ভাড়া করে এই বিলে আসতে পারেন। খরচ পড়বে ৬০০-৮০০ টাকা। তবে ব্যক্তিগত গাড়িতে এলে ফোর হুইল ড্রাইভ জিপ অথবা এই জাতীয় ভারী গাড়িতে আসাই ভালো। কারণ এখানকার রাস্তা খুব একটা ভালো নয়। মৌলভীবাজারের পথ ধরে প্রায় ৬ কিলোমিটার অগ্রসর হলে এই বিলে পৌঁছানোর নির্দেশিকা সংবলিত সাইনবোর্ডটি আপনার বাম পাশে পড়বে। এ ছাড়া দিকনির্দেশনার জন্য আপনি স্থানীয়দেরও সাহায্য নিতে পারেন। আর গুগল ম্যাপ তো আছেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত