যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় নরসিংদীতে দীপা চন্দ্র সূত্রধর (২৭) নামে এক গৃহবধূর ডান হাত চাপাতি দিয়ে কনুইয়ের ওপর থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী বিষ্ণু সূত্রধরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে করা হত্যাচেষ্টা মামলায় রাতেই বিষ্ণুকে গ্রেপ্তার করা
হয়েছে। তবে গতকাল বুধবার তিনি আদালতকে বলেছেন, স্ত্রীর পরকীয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
আহত দীপা নরসিংদী পৌর শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য দিলীপ সূত্রধরের মেয়ে। তার স্বামী বিষ্ণু সূত্রধরের বাড়ি কুড়িগ্রামে।
আহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি দীপার বাবা দিলীপ সূত্রধর বিজিবি থেকে অবসর নিয়ে পেনশনের কিছু টাকা পেয়েছেন। শ্বশুরের সেই টাকার প্রতি লোভ জন্মায় বিষ্ণুর। সম্প্রতি তিনি ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু দীপা এ কথা বাবাকে বলতে অস্বীকৃতি জানান। গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষ্ণু তার শ্বশুরবাড়ি নরসিংদীর পশ্চিম কান্দাপাড়ায় আসেন। রাতের খাওয়াদাওয়া শেষে পরিবারের সবার সঙ্গে রাত ১টা পর্যন্ত আড্ডা দেন। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ বিষ্ণু চাপাতি দিয়ে তার স্ত্রী দীপার ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এ সময় দীপা চিৎকার দিলে চাপাতির কোপ মুখের ডান গালে ও বাম হাতে লাগে। এতে গাল কেটে যায়। চিৎকার শুনে তার বাবা দিলীপ সূত্রধর, মা অরুণা সূত্রধর ও ভাই রাজীব সূত্রধর দীপাকে উদ্ধার করেন। এর ফাঁকে বিষ্ণু পালিয়ে যান। দীপাকে স্বজনরা প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত দীপা সূত্রধর বলেন, ‘ঘুমের মধ্যে হঠাৎ সে চাপাতি দিয়ে আমার হাত কেটে ফেলে। তারপর আমাকে জবাই করতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। সেই আঘাতই আমার গালে ও বাম হাতে কোপ লেগেছে। সে নাকি আমাকে খুন করার পর আমার দুই ছেলেমেয়েকেও খুন করত।’
দীপার ছোট ভাই ও মামলার বাদী রাজীব সূত্রধর বলেন, ‘রাত ১টা পর্যন্ত দিদি ও বোন জামাইয়ের সঙ্গে আড্ডা দিই। রাত ৩টায় দিদির চিৎকারের শব্দ শুনে গিয়ে দেখি জামাইবাবু দিদির ডান হাত কেটে ফেলে দিয়েছে। মুখের গাল ও বাম হাতের কোপের আঘাত। তবে তাদের কোনো ঝগড়া করতে শুনিনি।’
ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরীফ বলেন, দীপার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া তার মুখের ডান পাশে লম্বালম্বিভাবে মাংস আলাদা হয়ে গেছে। বাম হাতেও আঘাত পেয়েছে সে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার এসআই রুহুল আমিন বলেন, এ ঘটনায় আহতের ছোট ভাই রাজীব বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। মামলায় মঙ্গলবার রাতেই বিষ্ণুকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। ওসি সৈয়দুজ্জামান বলেন, গতকাল বিকেলে বিষ্ণু সূত্রধর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি তার স্ত্রীর পরকীয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন।
