অনেক মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয় । যারা আগে কখনোই ডায়াবেটিসের রোগী ছিলেন না। তাই একে বলা হয় গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। এ সময় কিছু হরমোনের প্রভাবে হয়ে থাকে। কিছু কিছু রোগীর বেলায় এটা পরবর্তী সময়ে স্থায়ী হয়ে যায়। এবং তিনি একজন ডায়াবেটিক রোগী হয়ে ওঠেন।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের কারণ
ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে অর্থাৎ বংশের অন্য কারও ডায়াবেটিস থাকলে
আগে কোনো সন্তান অজানা কোনো কারণে মারা গিয়ে থাকলে
গর্ভথলিতে পানির পরিমাণ বেশি হলে
বারবার যোনিপথে ছত্রাকের সংক্রমণ হলে
স্থূলতা
বয়স ত্রিশ বা তার বেশি হলে
কেন ঝুঁকিপূর্ণ
মায়ের সমস্যা যেমন, গর্ভাবস্থায়– রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে, গর্ভথলিতে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রসব বেদনা উঠতে পারে, বাচ্চা নষ্ট হতে পারে, প্রস্রাবের রাস্তায় ইনফেকশন হতে পারে ইত্যাদি। এছাড়াও; প্রসবকালীন বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন– প্রসবে দেরি হতে পারে, প্রসবের সময় বাচ্চার মাথা বের হলেও কাঁধ আটকে যেতে পারে। এছাড়া প্রসব পরবর্তী রক্তপাত হতে পারে, ইনফেকশন হতে পারে, মায়ের দুধ আসতে দেরি হতে পারে। শুধু মায়ের সমস্যা নয়, বাচ্চার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু সমস্যা হতে পারে, যেমন বাচ্চার মাথা বড় হতে পারে, বিকলাঙ্গতাসহ বিভিন্ন জন্মগত ত্রুটি হতে পারে।
ডাক্তারি পরীক্ষা
* গর্ভধারণের শুরুতেই রক্তের পরীক্ষা– যেসব পরীক্ষা করতে হবে তাহলো ফাস্টিং ব্লাড গ্লুকোজ, র্যানডম ব্লাড গ্লুকোজ, ওজিটিটি, এইচ এ ওয়ান সি টেস্টগুলো করা।
করণীয়
সঠিক সময়ে অর্থাৎ গর্ভধারণের প্রথম দিকে রক্তে শর্করা আধিক্য ধরা পরলে নিয়ম মতো খাবার খেতে হবে ও শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। খাবার সঠিক তালিকা বা নিয়ম মাফিক খাদ্যাভ্যাস মেনে না চললে আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। ডায়াবেটিসের শিশুরা অন্য শিশুদের থেকে ওজনে ভারী হয়। যার কারণে আপনার স্ক্যানে বাচ্চা একটু বড় এসেছে, কারণ মায়ের পেটে বাচ্চা অবিরাম অতিরিক্ত চিনি পেয়ে থাকে। কিন্তু জন্মের পর মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দ্রুত এই শর্করার মাত্রা কমে যায়। হঠাৎ করে এই পরিবর্তনে বাচ্চার রক্তে চিনির মাত্রা কমে যায়, তাই এটি এড়াতে জন্মের পর পরই বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। খাদ্য তালিকায় শর্করা জাতীয় খাবার কম ও শাকসবজি বেশি থাকতে হবে। পানি খাবেন পরিমাণ মতো। ডায়াবেটিস আক্রান্ত মায়েদের মোটা হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক তাই ভালো করে বিশ্রাম নেবেন কিন্তু হাঁটাহাঁটিও করবেন। ভারী কাজ করবেন না। এমনকি, বাচ্চা প্রসবের পরেও কমপক্ষে তিন মাস এই নিয়ম মেনে চলতে হবে।
চিকিৎসা
রক্তের শর্করা খাবার দিয়ে কন্ট্রোলে থাকলে ভালো। না থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ইনসুলিন দিতে হবে। ডায়াবেটিসের জন্য মুখে খাওয়ার ওষুধগুলো গর্ভাবস্থায় সমস্যা করতে পারে। যদি কন্ট্রোলে থাকে তবে মা স্বাভাবিকভাবে প্রসব করতে পারেন। যাদের রক্তে চিনির মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে না তাদের ডাক্তারই সিজার করার জন্য বলতে পারেন বা রোগীকে নরমাল ডেলিভারির জন্য লেবারে আনতে ব্যবস্থা নিতে পারেন। আসলে একেক রোগীর জন্য একেক ব্যবস্থা। চিকিৎসক রোগীর পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন।
ডা. আতিকা সুলতানা
এমবিবিএস (ডিইউ) ডিএমইউ (আলট্রাসাউন্ড) পিজিটি
(গাইনি অ্যান্ড অবস)
