মহাসড়কে দূর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে ধীর গতির যানবাহনকে। তাই এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কোন যন্ত্র চালিত আটোরিক্সা, ইজিবাইক বা ভ্যান উঠলেই, তা আটক করা হচ্ছে।
সাভার হাইওয়ে থানায় গত শনিবার রাতে ঘটেছে বিচিত্র ঘটনা। রাতের আঁধারে আটককৃত অটোরিক্সা বিক্রি করার সময় রিক্সা ও পুলিশের মোটরসাইকেলসহ জনতার হাতে আটক হয়েছে হাইওয়ে থানার এক সোর্স।
হাইওয়ে সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস যাবৎ যন্ত্র চালিত কোন অটোরিক্সা ও ভ্যান ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে উঠলেই, তা আটক করছে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে, প্রতিদিন আটক করা হয় প্রায় ১০ থেকে ১৫টি অটোরিক্সা। এমন অপরাধ করলে কোন রিক্সা চালককেই ছাড় দেন না, থানার নতুন (ওসি) মো. গোলাম মোর্শেদ তালুকদার।
ভুক্তভোগী অটো রিক্সা চালক হাসান জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি রিক্সা চালান। গত ছয় মাস আগে আশুলিয়ার হাসেম প্লাজার সমনে থেকে তার অটোরিক্সাটি আটক করে হাইওয়ে থানা পুলিশ। সে সময় তিনি ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অটোরিক্সাটি ছাড়িয়ে নিয়ে যান। গত শুক্রবার আবার একই জায়গা থেকে তার আটোরিক্সাটি আটক করা হয়। পূর্বের গাড়ি ছাড়ানোর অভিজ্ঞতার সূত্র ধরে হাসান গত দুই দিন হাইওয়ে থানায় চেষ্টা করেও তার অটোরিক্সাটি ছাড়াতে পারছিলেন না। শনিবার গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দেখেন, হাইওয়ে থানা থেকে একটি অটোরিক্সা ও একটি ভ্যান নিয়ে যাচ্ছেন থানার কয়েক জন লোক। এসময় তাদের সাথে পুলিশের স্টিকার লাগানো একটি মোটরসাইকেলও ছিলো। তার সন্দেহ হলে তাদের পেছন-পেছন জাহাঙ্গীরনগর প্রান্তিক গেটের সামনে গিয়ে, তাদের পথ আটকে দাঁড়ান। এসময় একজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে, বাকি তিন জনকে আটক করেন উপস্থিত জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটি আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানালে, আশুলিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মামুন হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি আটোরিক্সা, একটি ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেন।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আশুলিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মামুন হোসেন জানান, শরিফুল ইসলাম, শাহেব আলী ও মোকলেছসহ উদ্ধার করা যানবাহন সাভার হাইওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন আটক শরিফুল ইসলামের কাছে পুলিশের ষ্টীকার লাগানো একটি মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল, ২৫-৭৫৮৩) পাওয়া যায়। আর শাহেব আলী ও মোকলেছ উপস্থিত জনতার কাছে জেরার মুখে স্বীকার করেছেন, তারা থানার (সোর্স) শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে অটোরিক্সা ও ভ্যানটি কিনেছেন।
হাইওয়ে থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটির মালিক হাইওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলাম। শরিফুল ইসলাম (সোর্স) গভীর রাতে তার নিবন্ধনকৃত মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করার কারণ জানতে চাইলে উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলাম বলেন শরিফুল তার মামাতো ভাই।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলাম সাভার হাইওয়ে থানায় বদলি হয়ে আসার পর থেকে তার মামাতো ভাই শরিফুলের মাধ্যমেই প্রায় প্রতি রাতে সাভার হাইওয়ে থানা থেকে অটোরিক্সা, ভ্যান ও ইজিবাইক বিক্রয় করা হয়।
অভিযানে আটক করা যানবাহন রাতের আধাঁরে থানা থেকে বিক্রি করার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোর্শেদ তালুকদার এই প্রতিবেদককে সংবাদটি প্রকাশ করতে নিষেধ করে বলেন, আপনি একবার থানায় আসেন, চায়ের দাওয়াত রইল।
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর (রিজিয়ন) এর পুলিশ সুপার আলী আহম্মেদ খাঁনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানা থেকে যানবাহন বিক্রি করার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
