সোর্স হতে রাজি না হওয়ায় যুবককে পেটাল ‘পুলিশ’

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:১০ পিএম

যশোরে মামুন হোসেন বাপ্পী (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার অভিযোগ, যশোর সদর ফাঁড়ির এটিএসআই আতাউর রহমানের সোর্স (তথ্যদাতা) না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে। তবে আতাউর বলেছেন, ওই নামে তিনি কাউকে চেনেন না। মামুন যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে শহরের বারান্দিপাড়া ঢাকারোড এলাকায় জাফরের পান দোকানের সামনে মারধরের এ ঘটনা ঘটে বলে মামুন জানান। তিনি যশোর শহরের মোল্লাপাড়া আমতলার জুলু মিয়ার ছেলে।

মামুন বলেন, ‘শহরের আরএন রোডে রিফাত মোটরস নামে আমাদের একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আছে। আতাউর রহমান আমাকে সোর্স হিসেবে তার কাজ করতে বলেন। আমি অপারগতা প্রকাশ করি। শনিবার বিকেলে তিনি আমাকে মোবাইল ফোনে ডাকলেও আমি যাইনি। তিনি আমার অবস্থান জানতে চাইলে জানাই, ঢাকারোড জাফরের পান দোকানের সামনে আছি। কিছু সময় পর তিনি সেখানে এসে আমাকে চড়, থাপ্পড়, লাথি, ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে আমি মাটিতে পড়ে গেলে তিনি চলে যান। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাই। এর আগেও তিনি আমাকে তিন-চার দিন এভাবে মারধর করেছেন।’ এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছেন কি না এ প্রশ্নে মামুন বলেন, র্আও সমস্যায় পড়তে পারেন এমন আশঙ্কায় তিনি থানায় অভিযোগ দেননি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার কল্লোল কুমার সাহা বলেন, রোগী জানিয়েছে তাকে চাপা আঘাত করা হয়েছে। তার বুকের এক্স-রে করতে বলা হয়েছে। তবে সে আশঙ্কামুক্ত। জানতে চাইলে আতাউর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মামুন হোসেন বাপ্পী নামে কাউকে চিনি না। পান দোকানদার জাকিরের সঙ্গে টাকাপয়সা লেনদেন নিয়ে তার কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ওখান থেকে সরিয়ে দিয়েছি, মারধর করিনি।’ সদর ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দীন বলেন, ‘এ রকম কোনো ঘটনা জানা নেই।’

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সদর ফাঁড়ির পরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ নিয়ে দেখছি। ঘটনার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত