রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ দিলে ফৌজদারি মামলা

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:১১ এএম

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও জন্মসনদ দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া একই অভিযোগে বেশ কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সচিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে গত ৮ আগস্ট একটি চিঠি দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার বিভাগে। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কয়েক দফা বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে ৬৪ জেলায় জেলা

প্রশাসক ও দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরও চিঠি দেওয়া হয়। এরপরও কোনো কোনো জনপ্রতিনিধি আর্থিকভাবে সুবিধা নিয়ে কক্সবাজারের ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও জন্মসনদ দেওয়ার কাজটি করেই চলছেন। তাই এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু বরখাস্ত নয়, ফৌজদারি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (ইউনিয়ন পরিষদ শাখা) মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা নাগরিকদের সনদ দেওয়ার অভিযোগে আমরা এ পর্যন্ত ৩ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ২ জন পরিষদ সচিবকে সাময়িক বহিষ্কার করেছি। এ বিষয়ে আমরা সারা দেশে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছি। যাতে কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের সনদ না দেওয়া হয়। এরপরও যারা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এ কাজটি করে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ফৌজদারি আইনে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট গ্রহণের জন্য যাতে জন্মনিবন্ধন বা নাগরিকত্ব সনদ দেওয়া না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি চিঠি দেওয়া হয়। গত ৮ আগস্ট জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব (রাজনৈতিক অধিশাখা-২) মল্লিকা খাতুন স্বাক্ষরিত এ চিঠি আসে স্থানীয় সরকার বিভাগে। এর আগেই স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ ও জন্মসনদ দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এরপরও কোনো কোনো ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিব যাচাই-বাছাই না করে জন্মসনদ ও নাগরিক সনদ প্রদান করছেন, যা সরকারি আদেশ অমান্য করার শামিল ও গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৯ ও ১০ ধারা ভঙ্গ করা হচ্ছে।

কর্মকর্তা আরও জানান, এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আইন ভঙ্গ করার অপরাধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৪(১) অনুযায়ী কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ৬নং সন্তোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকু ও কাচাকাটা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানসহ তিনজন চেয়ারম্যান ও দুজন ইউপি সচিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বেগম রোকসানা কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। এরপরও যারা মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত