দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ি কলেজ মোড় থেকে কেডিএস বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাস্তা তৈরির মাত্র দুদিনের মাথায় কার্পেটিং উঠে যাওয়ার অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। এর পরিপ্রেক্ষিতে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঠিকাদারকে রাস্তার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ঝাড়বাড়ি বাজার থেকে কেডিএস বাজার পর্যন্ত রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। গত মঙ্গলবার আধা কিলোমিটার রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেন ঠিকাদার হাবিবুর রহমান হাবিব। রাস্তার যে অংশটুকুর কাজ শেষ হয়েছে তাতে দেখা গেছে, পিচ ঢালাইয়ের দুদিনের মাথায় রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূলত নিম্নমানের ইট ব্যবহারের ফলেই রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।
কেডিএস বাজার মোড় এলাকার আবদুল সাত্তার বলেন, এই রাস্তা তৈরিতে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। ইটের খোয়াগুলো ভালোভাবে দেওয়া হয়নি। এই এলাকার লোকজন বিষয়টি জানলেও প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।
কেডিএস বাজার এলাকার ভ্যানচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই রাস্তা দিয়ে সবসময় ভ্যান নিয়ে যাতায়াত করি। রাস্তা তৈরি করার জন্য যে মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে তা খুবই নিম্নমানের। এজন্য হাত দিয়েই রাস্তার কার্পেটিং ওঠানো যাচ্ছে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার হাবিবুর রহমান হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিটুমিন হিট দিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। বিটুমিন যত রোদ পাবে তত রাস্তার নিচে গিয়ে শক্ত হবে। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় আমরা ঠিকভাবে কাজ করতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে না বুঝেই এটা নিয়ে উল্টোপাল্টা কথা বলছে।’
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে দেখি রাস্তার কাজ খুবই নিম্নমানের হচ্ছে। রাস্তার কার্পেটিং লোকজন হাত দিয়েই তুলে ফেলছে। এজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রাস্তা তৈরির কাজ আপাতত বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছি।’
