১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তসহ তিন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুটি দাবি মেনে নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন। বাকি একটি দাবির বিষয়ে আইনি পরামর্শের জন্য তিন কার্যদিবস সময় নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। আগামী বুধবার এ ব্যাপারে আলোচনায় বসবে জাবি প্রশাসন ও আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ প্ল্যাটফর্মের আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ জানান, আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রবীন্দ্রনাথ হলের পাশের নির্মিতব্য তিনটি হলের দুটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে এবং একটি হল পশ্চিম দিকে কিছুটা পিছিয়ে নির্মাণ করা হবে। মাস্টারপ্ল্যান পুনর্বিন্যাসের দাবিটিও মেনে নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাস্টারপ্ল্যান পর্যালোচনার জন্য বর্তমান বিশেষজ্ঞ কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিরীক্ষার জন্য একটি বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা হবে। প্রকল্পের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এই কমিটিকে নির্দিষ্ট সময় পরপর অগ্রগতি জানানো হবে। রহিমা কানিজ বলেন, ‘দুটি দাবি মেনে নিয়েছে প্রশাসন। অপর দাবিটি ছিল প্রকল্পের টাকা থেকে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত। সে ব্যাপারে আইনি পরামর্শের জন্য তিন কার্যদিবসের সময় চেয়েছে প্রশাসন। আগামী বুধবার এ বিষয়ে আবার আলোচনা হবে।’ এর আগে তিন দফা দাবিতে গত ৩, ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। ৫ সেপ্টেম্বর অবরোধ চলাকালে উপাচার্য তাদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন।
