২০ বছর আগে হাংঝু শহরের একটি লেকসাইড অ্যাপার্টমেন্ট থেকে যাত্রা। নাম ছিল আলিবাবা। ১৯৯৯ সালে শিক্ষকতা করতে করতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন জ্যাক মা। তার হাত ধরে এটি যখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স কোম্পানি, ঠিক তখন তিনি প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব ছেড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার গণিতে ১ পাওয়া মানুষটির প্রতিষ্ঠানের চোখ এখন অন্য দিগন্তে।
গত ২০ বছরে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন, ক্লাউড কম্পিউটিং, ফুড ডেলিভারি, অফলাইন রিটেইলার্সসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসার পরিধি বাড়ায়। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যাক মা পরবর্তী অধ্যায়ে আলিবাবা ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ফেসিয়াল রিকগনেশনসহ নতুন প্রযুক্তিতে তাদের ফিজিকাল স্টোরকে রূপান্তর করতে চাইছে। এ ছাড়া ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতেও তারা হাত দেবে।
জ্যাক মা বিদায় নেন গত মঙ্গলবার। তার বিদায়ের দিন ৫৫তম জন্মদিন পালন করে আলিবাবা। প্রায় ৮০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে একটি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় ফায়ার ওয়ার্কস ডিসপ্লেসহ নানা ধরনের পারফরম্যান্স। শীর্ষপদ ছেড়ে দিলেও ৩৬ জনের আলিবাবা পার্টনারশিপের সদস্য থেকে যাবেন জ্যাক। চালিয়ে যাবেন নিজের সামাজিক কার্যক্রম।
২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ‘অ্যান ইভিনিং উইথ জ্যাক মা’ অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে বলেন, ‘লোকে আমাকে বলত, কী যোগ্যতা আছে তোমার? তুমি কখনো অ্যাকাউন্টিং শেখোনি, ম্যানেজমেন্ট শেখোনি। এমনকি কম্পিউটার সম্পর্কেও তেমন কিছু জানো না। তুমি কেন ব্যবসা করবে?’
জ্যাক মা বলেন, ‘সবাই জানে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার গণিতে আমি ১ পেয়েছিলাম। তিনবার পরীক্ষা দিয়েও ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাইনি। শেষ পর্যন্ত যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি, সেটার তেমন কোনো নাম ছিল না। হ্যাংঝোউ নরমাল ইউনিভার্সিটিকে তখন চতুর্থ শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয় ধরা হতো।’
আলিবাবার চিন্তা কীভাবে তার মাথায় এসেছিল জানান সেই কথাও, ‘যখন আমি ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার ২৪ জন বন্ধুকে বাসায় নিমন্ত্রণ করেছিলাম। পাক্কা দুই ঘণ্টা আমার ভাবনাটা ওদের বোঝানোর পর আমি বুঝতে পারলাম, ওরা কিছুই বোঝেনি! ২৪ জনের মধ্যে মাত্র একজন আমার পাশে থাকতে রাজি হয়েছিল।’
১০ আগস্ট চীনে ছিল শিক্ষক দিবস। আলিবাবা থেকে বিদায় নিতে এই দিনটিকে বেছে নেন একসময় শিক্ষকতা করা জ্যাক মা।
বিদায়ী বক্তব্যে ভবিষ্যতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। ফাইভ-জি এবং ডেটা শেয়ারিং বিষয়গুলো কীভাবে বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়ে মৌলিক প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে আলোচনা করেন।
‘এই পৃথিবীতে এমন অনেক ভুল ধারণা এবং অবাঞ্ছিত বিষয় আছে, সেগুলোর সমাধানে আমি ভূমিকা রাখতে পারব। শীর্ষপদ থেকে সরে দাঁড়ানো মানেই পুরোপুরি অবসরে যাওয়া নয়। আমি থেমে থাকব না। আলিবাবা ছিল আমার অনেকগুলোর স্বপ্নের একটি মাত্র।’
জুন মাসে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে আলিবাবার আয় ছিল ১ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার। গত বছর আলিবাবার প্ল্যাটফরম থেকে বিক্রি ২৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজনের বিক্রি ছিল ২ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার জ্যাক মা ব্লুমবার্গের তালিকায় বিশ্বের ২০ জন ধনকুবেরের তালিকায় রয়েছেন। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪ হাজার ১৮০ ডলার।
