রাজশাহী নগরীতে বিদ্যুতের খুঁটিতে বাড়ছে অবৈধ তারের সংখ্যা। বিদ্যুতের এলোমেলো তারের সঙ্গে নতুন করে যোগ হচ্ছে ডিশ লাইন (কেবল নেটওয়ার্ক) ও ইন্টারনেটের তার। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বিদ্যুতের খুঁটিতে মাকড়সার জালের মতো প্যাঁচানো আছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এসব তার। তারের জঞ্জালের ভারে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো যেন মুখ থুবড়ে পড়ছে। এসব তারের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হলেও তা সরানোর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তবে নগর কর্র্তৃপক্ষ বলছে সংশ্লিষ্টদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই অভিযানে নামবেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিন যত যাচ্ছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়ছে ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। নগরীতে বর্তমানে মোট ৫টি ডিশ সংযোগ ও ১৭টির বেশি ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি ব্যবহার করছে তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজশাহী শহরের প্রতিটি বিদ্যুতের খুঁটিতে রয়েছে অবৈধ তার। এমনকি অনেক খুঁটির সঙ্গে পাকিয়ে তৈরি হয়ে আছে তারের কু-লী। এত তারের জটলায় বোঝা মুশকিল যে কোনটি বিদ্যুতের আর কোনটি টেলিফোন, ইন্টারনেট বা ডিশের তার। কোন প্রতিষ্ঠানের তার কোনটি তাও সহজে নিশ্চিত হওয়া যায় না। অনেক খুঁটিতে আবার ঝুলছে ছেঁড়া তার। কোনোটি আবার ছিঁড়ে রাস্তায় লুটোপুটি খাচ্ছে। মহানগরীর প্রধান প্রধান সড়কসহ প্রায় সব অলিগলিতে যেদিকেই তাকানো যাবে দেখা যাবে বিদ্যুতের খুঁটিজুড়ে তারের জটলা। বিদ্যুতের তারের বদলে ডিশ ও ইন্টারনেট লাইনের তারই দখল করেছে খুঁটি। ডিশ ও ইন্টারনেট লাইনের কর্মীরা সংযোগ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় তারগুলো রেখে যায় খুঁটিতে। বিদ্যুতের তারের সঙ্গে এসব তার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। অতিরিক্ত এসব তার দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
নগরীর সাহেব বাজার এলাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদ্যুতের খুঁটিগুলোতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে তারের জটলা। নগরীর সব এলাকার সড়কগুলোতে বিদ্যুতের খুঁটিতে খুঁটিতে রয়েছে অবৈধ এসব তারের জটলা। মাঝেমধ্যে এসব তারে শর্টসার্কিটে আগুন লাগে। কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তার স্থাপন করছে সংস্থাগুলো। এতে প্রাণহানি ও নানা দুর্ঘটনার পাশাপাশি ঘটছে নগরীর সৌন্দর্যহানিও।’
বৈদ্যুতিক খুঁটিতে অবৈধভাবে তার লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর কেবল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান স্পেস চ্যালেঞ্জের ব্যবস্থাপক আবদুল আওয়াল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা যতটুকু সম্ভব সরিয়ে নিতে চেষ্টা করছি। তবে কিছু এলাকায় এখনো আছে। এগুলোও আমরা সরিয়ে নেব।’
ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অম্বার আইটি রাজশাহী শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকন আলী বলেন, ‘এসব তার সম্পর্কে আমরা এরই মধ্যে নোটিস পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী আরেক প্রতিষ্ঠান লিংক থ্রি-এর রাজশাহী শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আমাদের নোটিস করা হয়েছিল। আমরা মেয়র মহোদয়কে নোটিসের জবাব দিয়েছি। তবে আমাদের পক্ষে সব এলাকার তার সরানো সম্ভব না।’
এদিকে অবৈধ এসব তার বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘœ ঘটাচ্ছে। নেসকো পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিরিন ইয়াসমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদ্যুতের খুঁটিতে ইন্টারনেট বা ডিশের তার সবই অবৈধ। এগুলোতে আমাদের কাজেরও সমস্যা হচ্ছে, পাশাপাশি ঘটছে দুর্ঘটনা। এগুলো অপসারণের জন্য আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই। যদি আসে তাহলে আমরা করব।’
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সেই নির্দেশনা না মানলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা শাহানা আখতার জাহান বলেন, ‘আমরা ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী ১৭ প্রতিষ্ঠানকে নোটিস পাঠিয়েছি। ১৫ সেপ্টেম্বর (আজ) পর্যন্ত তারা সময় পাবে। এর মধ্যে তার না সরালে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
