পাঠকের মর্জি মতো লিখলে আপস হবে। লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেওয়াও বিপজ্জনক বলে মনে করেন ভারতীয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, “লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নিলে কিন্তু মুশকিল। যখন এটা পেশা হয়ে যাবে, তখন কিন্তু পাঠক কী চায়, সেটা লিখতে হবে। পাঠক এখন কী খেতে চাইছে, সেটা ধরে লিখলে কিন্তু লেখার সঙ্গে আপস হয়ে যাবে।”
রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সপ্তম তলায় বাতিঘরে সোমবার সকালে এক আড্ডায় অংশ নেন যাও পাখি, মানবজমিন, দুরবিন, পারাপার ও পার্থিবসহ অনেক জনপ্রিয় উপন্যাসের লেখক।
বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশের সঞ্চালনায় শীর্ষেন্দু বলেন, “আমি লিখবো, পাঠক সেটা নেবে কী নেবে না, তা পাঠকের বিষয়। লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেওয়াটা বিপজ্জনক।”
এই সময় পাঠকের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন শীর্ষেন্দু। বর্তমান সময়ে পৃথিবীর অবস্থা খুবই খারাপ বলে মনে করছেন এই সাহিত্যিক।
তিনি বলেন, “আমরা যে ভুবনে বাস করছি সেই ভুবনটাকে আমরাই ধ্বংস করছি। এই যে আমাজনে আগুন লাগলো। আমি তো মনে করি আমাজানে আগুন লাগানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, ‘আমাদের দেশে তো এখন প্রচণ্ড শীত। তাহলে কীভাবে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কথা স্বীকার করবো।’ তিনি বুঝতেই পারছেন না যে ক্লাইমেট আর ওয়েদার এক জিনিস নয়। সেটা বুঝতে না পারলে এমন মন্তব্যই করা হবে।”
“তারা মানছেনই না যে পৃথিবীর বিপদ। জেনেও না জানার ভান করছেন কিংবা না জেনেও না জানার ভান করছে। এটাই বড় বিপদ। মহাশক্তিধর দেশগুলো যদি এই বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত না নেয় তবে আমাদের জন্য খারাপ হবে। আমাদের এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাজনকে তার পুরোনো মহিমায় ফেরত দিতে হবে”, বললেন শীর্ষেন্দু।
বাংলাদেশের কাদের লেখা ভালো লাগে- এমন প্রশ্নে বলেন, “হুমায়ূন আহমেদ আছেন, ইমদাদুল হক মিলন আছেন। বাংলাদেশে যে মানুষটি আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছেন তিনি হলেন, আল মাহমুদ। এত শক্তিমান কবি পশ্চিমবঙ্গেও কম আছেন। আরেকজন কবি আছেন, সে বেশি লিখে না, অল্প লিখে। শব্দঘরে বেরিয়েছিল জুয়েল মাজহার বলে একজনের কবিতা। সে রিপোর্টার। অসাধারণ কবিতা লিখেছিল। আমি তাকে খুঁজে খুঁজে বের করেছি।”
এভাবে নানান বিষয়ে প্রশ্ন-উত্তরে দেড় ঘণ্টা আলাপচারিতায় অংশ নেন প্রখ্যাত এই সাহিত্যিক। সবশেষে পাঠকদের অটোগ্রাফ দেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।
