২০ হাজার মানুষের ভরসা একমাত্র সাঁকোটি

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৫৭ পিএম

হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী, কোরালিয়া ও আঠারোবেকি গ্রাম। তিন গ্রামের বাসিন্দাদের দুঃখ তমরদ্দি বাজার থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে কাটাখালী খালের উপর তিনশ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকোটি।

সাঁকোটি তিন গ্রামের ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

জানা গেছে, গত রবিবার সাঁকো থেকে খালে পড়ে গুরুতর আহত হয় আঠারোবেকির আবদুল মন্নানের ছেলে ফারুক (২২)। নিজ খরচে সাঁকোটি তৈরি ও মেরামত করেন মো. কামাল।

সম্প্রতি তার স্ত্রী খুকি বেগম (৩০), স্থানীয় নুরানী মাদ্রাসার ছাত্র ফরহাদ (৮), জ্যোতি মেস্তরী (৪০) ও ছিদ্দিক (৫৫)সহ ৮ জন সাঁকো থেকে খালে পড়ে আহত হন।

সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং ওই খাল পাড়ের মুদি দোকানি গিয়াস উদ্দিন, মাছ ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন আনছল হকসহ স্থানীয়দের সাথে এ প্রতিনিধির কথা হয়।

তমরদ্দি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস দেশ রূপান্তরকে জানান, বৃষ্টির সময় সাঁকো পার হতে বোরকা, ছাতা ও বই কোনটি ধরবো এ নিয়ে বিপদে থাকি। জোয়ারের সময় সাঁকো ভাসে, পা দিলে সাঁকোর বাঁশ নিচে নেমে যায় তাই সাাঁকো পার হওয়ার জন্য ভাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

দশম শ্রেণির রক্সি ও সপ্তম শ্রেণির বৃষ্টি জানান, তারা উভয়েই একবার সাঁকো থেকে খালে পড়ে যায়।

স্থানীয়রা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো পার হয়। সাঁকো পারাপারে শিশু, নারী ও বয়স্করা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন। বর্ষায় শিক্ষার্থীদের অনেকেই সাঁকো থেকে খালে পড়ে যায়, কারো কারোর বই-খাত পানিতে পড়ে যায় বা বৃষ্টিতে ভিজে যায়। বাজারের সদাই, দোকানিদের মালপত্র ও কৃষি যন্ত্রপাতি পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফসলের বোঝা মাথায় নিয়ে অতি কষ্টে সাঁকো পার হন অসহায় কৃষক।

সত্তরোর্ধ্ব আবদুল মুনাফ বলেন, গত চল্লিশ বছরে এ সাঁকো পার হতে গিয়ে কয়েকশ লোক আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। 

তমরদ্দি ইউপি চেয়ারম্যান ফররুক আহম্মদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিন গ্রামের মানুষ খুব ঝুঁকি নিয়ে বাাঁশের সাঁকোটি পার হন। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার আবেদন করেছি।

উপজেলা প্রকৌশলী তপন দেবনাথ বলেন, ঐ সাঁকোর জায়গায় একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য বার বার প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনো প্রস্তাব পাস হয়নি। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ-আলম বলেন, এ  সাঁকো দিয়ে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সাঁকোর জায়গায় একটি ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি অবশ্যই  গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত