ঢাকায় ইয়াবা উদ্ধারের পর ভাগাভাগির সময় ৫ পুলিশ গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৫ পিএম

চেকপোস্টে মোটরসাইকেল আরোহীর কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে সেগুলো নিজেদের মধ্যেই ভাগবাটোয়ারা ও কেনাবেচার অভিযোগে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে চার জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়নের (এপিবিএন) ও একজন গুলশান থানা পুলিশে কর্মরত।

তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যরা হলেন এপিবিএন-১ এ কর্মরত কনস্টেবল প্রশান্ত মণ্ডল (২৩), নায়েক মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৭), কনস্টেবল মো. রনি মোল্ল্যা (২১), কনস্টেবল মো. শরিফুল ইসলাম (২৩) ও গুলশান থানার এএসআই মাসুদ আহমেদ মিয়াজী (৪৪)।

তাদের সবার কাছ থেকে মোট ৫৫২ পিস ইয়াব ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন এপিবিএন-১ এর অধিনায়ক নিজামুল হক মোল্লা।

তিনি বলেন, বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানের গুদারাঘাট চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলে গুলশান থানা পুলিশ ও এপিবিএনের কয়েকজন সদস্য। তারা একটি মোটরসাইকেল আরোহীকে তল্লাশি করে তার কাজ থেকে কিছু ইয়াবা উদ্ধার করেন। তারা ইয়াবাগুলো রেখে ওই মোটরসাইকেল আরোহীকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন। পরে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় অবস্থিত এপিবিএন-১ সদর দফতরের ব্যারাকে ফিরে ভবনের চতুর্থ তলায় বসে সেগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোঁয়ারা করেন।

রবিবার সকালে গোপন সূত্রে এপিবিএনের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানাতে পেরে এপিবিএন-১ সদর দফতরের ব্যারাক ভবনের চতুর্থ তলায় অভিযান চালায়। অভিযানে দেখা যায় বাথরুমের সামনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ইয়াবা ভাগবাটোয়ারা করছেন। ওই অভিযানের নেতৃত্বে ছিল এপিবিএন-১ এর এসআই মো. আবু জাফর। তিনি এপিবিএনরে চার সদস্যকে আটক করেন। রবিবার বার দিনভর তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবশেষে রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, অভিযানে ব্যারাক ভবনের চতুর্থ তলার বাথরুমের সামনে গিয়ে দেখা যায় কনস্টেবল প্রশান্ত মণ্ডল, কনস্টেবল রনি মোল্ল্যা ও কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম ইয়াবা ভাগ-বাঁটোয়ারা করিছল। তাদের নাম-পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হয়। বিস্তারিত পরিচয় নেয়ার পর প্রশান্ত মন্ডলের দেহ তল্লাশি করা হয়। তার পরনে থাকা ফুল প্যান্টের ডান পকেট থেকে ১৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযান চালানো হয় প্রশান্তের ব্যারাকের রুমে। সেখানে তার কাপড়ের ট্রাঙ্ক থেকে আরও ৩৯৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কনস্টেবল শরিফুলের কাছ থেকে ইয়াবা বিক্রির নগদ ১৫ হাজার উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল জানিয়েছে, সে কনস্টেবল রনি মোল্ল্যার কাছ থেকে ১৮,৫০০ টাকায় ১৫০ পিস ইয়াবা কিনেছে। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় রনিকে। রনি জানায়, উদ্ধার ইয়াবার মধ্যে ২০০ পিস ইয়াবা গুলশানের এএসআই মাসুদ মিয়াজী তার কাছে রেখেছে। পরে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ মাসুদ মিয়াজীকে গ্রেপ্তার করে। কনস্টেবল জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৫০ পিস ইয়াবা। মাসুদ মিয়াজি ও জাহাঙ্গীর তাদের ইয়াবাগুলো বিক্রির জন্য প্রশান্ত মন্ডলকে দিয়েছে।  

উত্তরা পূর্ব থানায় কর্তব্যরত কর্মকর্তা এসআই মনিরা জানান, মাদকদ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় ৫ পুলিশকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

এপিবিএন-১ এর অধিনায়ন দেশ রূাপান্তরকে বলেন, এপিবিএন-১ ব্যাটলিয়নে কর্মরত চার কনস্টেবলকে সোমবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাদের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে। আর গুলশান থানার এসএআইয়ের বিষয়ে ডিএমপি সিদ্ধান্ত নেবে।

গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ফৌজদারি অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়ায় এএসআই জাহাঙ্গীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে বরখাস্তের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত