বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন না, উল্টো রাষ্ট্রই তাদের পরিচালনা করছে। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই, সরকার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। আর বিচ্ছিন্ন বলেই আজকে তাদের শুধু রাষ্ট্রের যন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় ফিরে আসতে হয় এবং টিকে থাকতে হয়। এভাবে টিকে থাকার জন্যই দমন-পীড়ন, অত্যাচার করা হচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার অবৈধ। সংসদ অবৈধ। এ অবস্থায় অবিলম্বে সংসদ বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে নতুন সরকার ও সংসদ গঠন করতে হবে। এটাই হচ্ছে আজকে জনগণের দাবি।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। আইনসঙ্গতভাবে তিনি যে জামিন পাওয়ার যোগ্য সেই জামিন নিশ্চিত করতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য দাঁড়াতে হবে, আন্দোলন করতে হবে। আমাদের অধিকার আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। কেউ আমাদের দিয়ে যাবে না।
বিএনপি মহাসচিব সরকারকে ইতিহাস ও মানবসভ্যতার দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এভাবে নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম, হত্যা করে কেউ চিরদিন টিকে থাকতে পারেনি। ফেরাউন পারেনি, নমরুদ পারেনি, মুসোলিনী পারেনি, হিটলার পারেনি, আইয়ুব খান পারেনি, এরশাদ পারেনি। আওয়ামী লীগও পারবে না।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদীন, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।
