মাদ্রাসা থেকে ‘জিন’ নিয়ে গেছে ছাত্রীকে!

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:২৪ এএম

রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাদ জামিয়া ফোরকানিয়া তালিমিয়া মহিলা মাদ্রাসার সাজমিন আক্তার (১৩) নামে এক ছাত্রী গত ৩১ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘মেয়েটিকে জিন নিয়ে গেছে।’ মেয়েটির পরিবার বলছে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সাজমিনকে গুম করেছে। গতকাল বুধবার মেয়ের সন্ধান চেয়ে বাবা মো. শরিফ উল্লা এবং মা শিল্পী আক্তার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

এতে লিখিত বক্তব্যে শিল্পী আক্তার বলেন, গত চার বছর ধরে তার মেয়ে ওই মহিলা মাদ্রাসায় পড়ছে। সে কওমি হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৭ আগস্ট তাকে মাদ্রাসায় দিয়ে আসেন তার মা নিজে। ৩১ আগস্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়, সাজমিনকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তিনি মাদ্রাসায় গেলে নিরাপত্তাকর্মী বলেন, আপনার মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তিনি মাদ্রাসার হুজুর ও আপাকে ফোন দেন। তারা একেক সময় একেক কথা বলছেন।

তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রথমে বলে, গেটে বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সাজমিন আর আসেনি। আবার জানায়, আপনার মেয়ের সঙ্গে জিন আছে। তাকে জিনে নিয়ে গেছে। আবার বলে, সে অসুস্থ। মাথা ঘুরে সিঁড়িতে পড়ে গেছে। পরে এ বিষয়ে ১ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানায় একটি জিডি করেন তিনি। কিন্তু পুলিশ এখনো মেয়েটির সন্ধান দিতে পারেনি। এর মধ্যে কয়েকটি নম্বর থেকে পুলিশ পরিচয়ে তার কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক মাসুদ আকবর বলেন, ঘটনার দিন সকালে সাজমিনকে গেট থেকে বের হতে দেখেছি। তখন সে তার বাবার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বের হয়।  এরপর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। জিনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েটির সহপাঠীরা বলছে, সে অসুস্থ ছিল।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনার পর মেয়েটিকে উদ্ধারে কাজ করছি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এখনো তেমন কোনো আপডেট নেই।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত