দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় একটি মসজিদের অনুদানের ৪৬ হাজার টাকা উপজেলা প্রকল্প অফিস থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোকছেদুল হক মসজিদের এ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার টংগুয়া গ্রামের বানিয়াপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুস সামাদ ৩ সেপ্টেম্বর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া গ্রামের বানিয়াপাড়া জামে মসজিদের নামে টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৬ হাজার টাকা উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই টাকা প্রকল্প অফিস থেকে উত্তোলন করা হলেও মসজিদ কমিটি তা পায়নি।
জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিকরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা জানতাম না আমাদের মসজিদের নামে বরাদ্দ এসেছে। আমাদের এলাকার বেশ কয়েকজন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে অন্য কাজে গেলে সেখানে দেখতে পান আমাদের মসজিদের নামে ৪৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরে আমরা বিষয়টি ইউপি সদস্য মোকছেদুল হককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এটা ভুয়া। এরকম কোনো টাকা আসেনি। আপনারা ভুল দেখেছেন।’
মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুস সামাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের মসজিদের নামে সরকারিভাবে ৪৬ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু আমরা সেই বরাদ্দের টাকা পাইনি। এজন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোকছেদুল হক বলেন, ‘মসজিদের ৪৬ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে। তার মধ্যে অর্ধেক টাকা সোলার বাবদ কাটা হয়েছিল এবং বাকি ২৩ হাজার টাকার মধ্যে মসজিদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এক হাজার ইট কিনে দেওয়ার কথা ছিল। আর বাকি ১৭ হাজার টাকা আমরা দুই মেম্বার (৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড) ভাগ করে নিই।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করে তাহলে আমি এর আগে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মালামাল মসজিদে অনুদান দিয়েছি। তাহলে সেগুলো বরাদ্দের মধ্যে ফেলতে হবে।’
তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দলিলউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বরাদ্দের টাকা এসেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোকছেদুল হক আমাকে বলেছিলেন আমি মসজিদে ৪১ হাজার ৯০০ টাকা দিয়েছি। এই বলে আমার কাছে তিনি টাকা উত্তোলনের কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেছেন।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদের টাকা কোনোভাবেই আত্মসাৎ করার উপায় নেই। কেউ চাইলেও সেটা করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রমাণসাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম বলেন, ‘এমন একটি অভিযোগ এসেছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
