নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও মাদারীপুরের কালকিনিতে দুই পুকুরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন দুই মাছচাষি।
গত শুক্রবার রাতের কোনো একসময় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ফতেপুর ইউপির বগাদী এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে মাছ নিধনের উদ্দেশ্যে পুকুরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করা হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত অভিযোগ করেছেন।
পুকুর মালিক প্রবাসী বাবুল মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি বাড়ির পাশে ৩০ শতাংশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে দুই বছর আগে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ শুরু করেন। সম্প্রতি এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে একই এলাকার আবেদ আলীর ছেলে আনোয়ারের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার গভীর রাতে আনোয়ার ও তার পরিবারের লোকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়ির সামনে এসে তাকে ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম ধরে ডাকাডাকি করতে থাকে। এতে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাবুল মিয়া বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গভীর রাতে বাড়িতে হানা দেওয়া হয়। শনিবার সকালে পুকুরের মাছগুলো পর্যায়ক্রমে ভেসে ওঠে। আমার ধারণা, দুষ্কৃতকারীরা আমাকে না পেয়ে শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় পুকুরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করেছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বালিগ্রাম এলাকার পাথুড়িয়ারপাড় গ্রামের মো. হান্নান হাওলাদার ওরফে হালান নামের এক ব্যক্তির পুকুরে গতকাল শনিবার ভোরের দিকে বিষ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ওই মৎস্যচাষি দাবি করেছেন। এ বিষয়ে ডাসার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
হান্নান হাওলাদার বলেন, ‘আমার প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি মাছের চাষ করে সংসার চালাতাম। আমি এখন কী খেয়ে বাঁচব।’
ডাসার থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মাছ নিধনের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’
