অচেতন করে টাকা স্বর্ণালংকার লুট

পঞ্চগড়ে এক পরিবারের ১০ জন হাসপাতালে

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৩৮ এএম

পঞ্চগড়ে একই পরিবারের ১০ জনকে অচেতন করে ১ লাখ টাকাসহ ৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার সকালে ওই পরিবারের অচেতন ১০ নারী, পুরুষ ও শিশুকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার রাতে জেলা সদরের আহমদনগর তেলিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাইয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আহমদনগর তেলিপাড়া এলাকার মোছলেম উদ্দিনের বাড়িতে শুক্রবার রাতে তার বাবা আলিমদ্দিনের কুলখানি ও দোয়ার অনুষ্ঠান ছিল। এজন্য বাড়িতে আলিমদ্দিনের জামাতার পরিবারের সদস্যরাও এসেছিলেন। দোয়া অনুষ্ঠান শেষে আত্মীয়-স্বজনদের কেউ কেউ রাতে ওই বাড়িতে থেকে যান। রাতের খাবার খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। গতকাল সকাল ৮টার দিকে মোছলেমউদ্দিন ঘুম থেকে উঠে দেখেন বাড়ির সবাই ঘুমাচ্ছেন এবং সব ঘরের দরজা ভাঙা। ১ লাখ টাকাসহ প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে।

এ সময় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তিনি তার মা রেজিয়া বেগম (৫৫), বোন মুন্নি আক্তার (৩৫), স্বপ্না বেগম (৩২), রতœা বেগম (৩১), ভাগ্নে মৃদুল (২১), সায়েম (১৩), খালা রাশিদা বেগম (৬০), ভাগ্নি সামিরা খাতুন (৫), অনন্যা (৩) এবং ভাতিজা মাহিনকে (৫) হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এর আগেও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থানে একই কায়দায় চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সিরাজউদ্দৌলা পলিন বলেন, ‘একই পরিবারের ওই সদস্যদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করছি ঘুমের ওষুধ জাতীয় কিছু কোনোভাবে তাদের খাওয়ানো হয়েছে। এখন তারা শঙ্কামুক্ত। তবে পুরোপুরি ঘোর কাটতে কারও কারও ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমরা ধারণা করছি খাবার কিংবা পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত