আবৃত্তিশিল্পী কামরুল হাসান মঞ্জুর মৃত্যু

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:১৮ এএম

চলে গেলেন বাংলাদেশের আবৃত্তিচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ কামরুল হাসান মঞ্জু। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ

সম্পাদক আহকাম উল্লাহ তার মৃত্যুর খবর দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

মঞ্জুর দীর্ঘদিনের আবৃত্তি সহকর্মী মীর মাশরুর জামান রনি গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বাসায় অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত আশিয়ান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই তার মরদেহ দাফনের জন্য যশোর নিয়ে যাওয়া হয়। 

আবৃত্তিশিল্পী আহকাম উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশে যে কজন মানুষের হাত ধরে সাংগঠনিক আবৃত্তিচর্চা শুরু হয়েছিল তাদের মধ্যে কামরুল হাসান মঞ্জু অন্যতম। আশির দশকের শুরুর দিকে ‘স্বরিত’ নামের সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম আবৃত্তি সংগঠন। একই সময়ে রাজশাহীতে স্বনন আর ঢাকায় স্বরিত সাংগঠনিক আবৃত্তিচর্চার ভিত রচনা করে। পরে স্বরশ্রুতি, কথা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রসহ অসংখ্য আবৃত্তি সংগঠন তৈরি হয়। বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।’

কামরুল হাসান মঞ্জুকে প্রথম দেখার স্মৃতি বলতে গিয়ে আহকাম উল্লাহ বলেন, “১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের আয়োজনে নবীনবরণ অনুষ্ঠান হচ্ছিল। আমি তখন নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে সেই অনুষ্ঠানে ছিলাম। সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে কামরুল হাসান মঞ্জু আবৃত্তি করেছিলেন ‘লেনিন’ কবিতাটি। তার আবৃত্তি শুনে মুগ্ধ হয়েছিলাম। অসংখ্য মানুষকে দেখেছি তার আবৃত্তি শুনতে। পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে অনেক মঞ্চে আবৃত্তি করার সুযোগ হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে তার ‘প্রসূনের জন্য প্রার্থনা’ আবৃত্তি প্রযোজনাটি তো আমাদের আবৃত্তি অঙ্গনে নতুন ধারার সংযোজন করেছিল। মঞ্জু ভাই বিভিন্ন আবৃত্তি দলের ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে করে বেশ কয়েকটি কাজ করেছেন। সেগুলো আমাদের আবৃত্তি অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি আবৃত্তিচর্চার পাশাপাশি লেখালেখিও করতেন।”

কামরুল হাসান মঞ্জুর মৃত্যুতে স্মরণসভার আয়োজন করবে আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ রাত ১১টার দিকে বলেন, ‘মঞ্জু ভাইয়ের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা যশোরে মরদেহ নিয়ে যাচ্ছে। ফলে ঢাকায় কোনো আয়োজন করা গেল না। মঞ্জু ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় ফেরার পর তাদের সঙ্গে কথা বলে স্মরণসভার তারিখ চূড়ান্ত করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত