প্রাথমিকে সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ তিন নতুন পদ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:০৯ এএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও দুটি বিষয়ভিত্তিক পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষক থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হওয়া যাবে। প্রধান শিক্ষক পদেও শিক্ষকদের পদোন্নতি হবে। এ বিষয়ে নীতিমালা সংশোধন করে আরও সহজ শর্ত রাখা হচ্ছে। গতকাল সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সারা দেশের শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী শিক্ষকের গ্রেড ও বেতন বৈষম্য দূর করার বিষয়ে তেমন কোনো সুরাহা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। বেতন বৈষম্য দূর করার দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বলছে, সরকারের যেকোনো ভালো উদ্যোগকে স্বাগত জানাই; তবে সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

মন্ত্রণালয়ে সভা শেষে অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. বদরুল হাসান বাবুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও অনেকে সারা জীবনে একটিও পদোন্নতি পান না। নিয়োগ পাওয়া পদে থেকেই তাদের অবসরে চলে যেতে হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক থেকে পরবর্তী সাত বছর পর প্রধান শিক্ষক হওয়ার কথা থাকলেও পদ স্বল্পতার কারণে অনেকে পদোন্নতি পান না। এ কারণে হতাশা আর অপ্রাপ্তি নিয়ে তাদের কর্মজীবন শেষ হয়। শিক্ষকদের কথা বিবেচনা করে আমরা নতুন পদ সৃষ্টি করেছি। জনপ্রশাসন থেকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের পদোন্নতি পেতে যেন বেগ পেতে না হয়ে সেজন্য সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদটিকে ১১তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চার বছর পর সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হবেন। পরবর্তী তিন বছর পর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হবেন। প্রধান শিক্ষক পদটি ১০তম

 

গ্রেড করা হবে। কিন্তু শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদেরকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে তেমন কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা হয়নি।’

নতুন পদগুলো শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্যে নীতিমালা সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আজ সোমবার (গতকাল) মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নীতিমালায় শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষকদের বিষয়টি যুক্ত করা হবে। এসব শিক্ষকের যোগ্যতা কী হবে, তা পরবর্তী সভায় নির্ধারণ করা হবে।’

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা পদোন্নতি, গ্রেড ও বেতন বৈষম্য দূর করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে এবং প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। কিন্তু শিক্ষকদের দাবি সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ১০তম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। তাদের দাবি বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। দাবি বাস্তবায়নে সহকারীদের ১২তম গ্রেড ও প্রধানদের ১০তম গ্রেডের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা নাকচ করা হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১০ ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১২তে উন্নীতকরণের সুযোগ নেই বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়। এরপর থেকে শিক্ষকদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি দুটি পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান তাদের গ্রেড দেওয়া হয় ১১তম। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড দেওয়া হয় ১৪তম। প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড পার্থক্য ৩টি। শুধু তাই নয়, সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন চাকরি করার পর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হলেও বেশিরভাগ সময় পদ শূন্য না থাকায় তারা প্রধান শিক্ষক পদে বসতে পারেন না। আবার যারা পদোন্নতি নিয়ে প্রধান শিক্ষক হন, তাদের গ্রেড ও বেতন কোনোটাই বাড়ে না। এমন বৈষম্য তো মেনে নেওয়া যায় না। নীতিমালা সংশোধন করে যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত