শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মেজবাহকে শেষ বিদায়

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:০৪ পিএম

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে বাসদ  (মাকর্সবাদী) চট্টগ্রাম জেলার বর্ধিত ফোরামের নেতা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-সভাপতি ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি ফোরামের সদস্য মেজবাহ উদ্দিনকে।

মঙ্গলবার বিকেল ৪ টার দিকে মেজবাহ উদ্দিনের মরদেহ চট্টগ্রাম শহীদ মিনারে সম্মুখে নিয়ে আসা হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই সংগঠকের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা কমরেড মানস নন্দী বলেন, মেজবাহ প্রগতিশীল আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার মৃত্যু চট্টগ্রাম তথা বামপন্থী ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অপূরণীয় ক্ষতি। এ অভাব পূরণ হওয়ার নয়।

চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সংগঠক রুবেল বিশ্বাস বলেন, মেজবাহ উদ্দিন শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি একজন সাংস্কৃতিক সংগঠকও ছিলেন। বন্ধুবাৎসল্য তার চরিত্রের একটি বড় দিক।

বাসদ (মাকর্সবাদী) ব্যবস্থাপনায় শহীদ মিনারমুখী টিআইসি-রাইফেল ক্লাব সংলগ্ন স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে কমরেড মেজবাহ উদ্দিনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, নারী মুক্তি কেন্দ্র, গণসংহতি আন্দোলন, অগ্নিবীণা পাঠাগার, পথিকৃৎ পাঠাগার, নজরুল পাঠাগারসহ বিভিন্ন সংগঠন।

এরপর বেলা পৌনে ৫ টার দিকে মেজবাহ উদ্দিনের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করে শোকর‌্যালীর মাধ্যমে। শোক র‌্যালীটি লালদিঘির পাড় গিয়ে শেষ হয়। এরপর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি চন্দনাইশের কাঞ্চন নগরে। রাত আটটায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। 

রবিবার ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মেজবাহ উদ্দিনের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহখানেক আগে স্ত্রীর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম থেকে কলকাতায় যান মেজবাহ।

তারা জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হন মাত্র ৩৭ বছরে এই সমাজ আন্দোলন কর্মী। পরে তাকে ক্যালকাটা হার্ট ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার স্থানীয় সময় বেলা ১২টার দিকে মারা যান তিনি। 

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মেজবাহ উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করে আত্মনিয়োগ করেছিলেন বিপ্লবী রাজনীতিতে।

আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেছেন বাসদ (মার্কসবাদী), চট্টগ্রাম জেলা শাখার বর্ধিত ফোরামের সদস্য ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত