সারা দেশে অবৈধ নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয় ও পুকুর দখলকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে রাজশাহী জেলার ১৯৬ জন দখলকারীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলায় ২৫৮ জন, পাবনা জেলায় ২২৪ জন, নাটোর জেলায় ১০৫ জন, নাওগাঁ জেলায় ১৩৩ জন, জয়পুরহাট জেলায় ৮০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ১৪৫ জন ও বগুড়া জেলায় ৪০ জনের নাম রয়েছে। এদিকে রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায় নালা দখলকারী ৩১ জন, চারঘাটে নদী দখলকারী ৫৬ জন, তানোরে বিল দখলকারী ১০৯ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এসব তালিকায় যাদের নাম উঠে এসেছে তারা বর্তমানে দখল করে ছোট দোকান থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ সামান্য টিনের ঘর তুলে, কেউ বড় শিল্পকারখানা গড়ে দখল করেছেন নদ-নদী বা বিল-জলাশয়। এ তালিকায় রাজনীতিবিদদের নামও রয়েছে।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর ভবনের পূর্বদিক দিয়ে বয়ে যাওয়া নালা দখল করে পাকা, আধাপাকা টিনের ঘরের অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে প্রভাবশালীরা। এতে চারদিকের ময়লা-আবর্জনা ফেলে নালার পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাতে নাব্য হারিয়েছে নালাটি। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে দুর্গন্ধ পৌরবাসীর ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখলকারীরা প্রায় সবাই রাজনৈতিক দলের সে সংশ্লিষ্ট।
আবাসিক হোটেল, বিস্কুট ফ্যাক্টরি, হলুদ-মরিচ গুঁড়ার মিল, খাবার হোটেল, অ্যালুমিনিয়ামের দোকান, কাঠমিলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে। দখলকারীদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের কর্মী- সমর্থক। কয়েকজন বিএনপি ও জামায়াতের সদস্যও রয়েছেন দখলকারীর তালিকায়।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী মোহনপুর উপজেলার অবৈধ দখলদাররা হলেনÑ হাটরা গ্রামের মৃত অধীর চন্দ্র দাসের ছেলে অজিত চন্দ্র দাস, বৈঠা গ্রামের আবদুল রহেদের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন, ফুলশো গ্রামের মৃত তালেবের ছেলে মোস্তফা, মৃত জব্বারের ছেলে আ.লীগ নেতা কেশরহাট পৌর কাউন্সিলর সাবের আলী, মৃত হামেদের ছেলে আবদুর রহিম, আবদুস সালাম, বাকশৈল গ্রামের মৃত ময়েজের ছেলে রিয়াজ, নাকইল গ্রামের মজিবর রহমান, সাকোয়া গ্রামের বিজল সরদারের ছেলে মহসিন কবিরাজ, জামায়াতকর্মী সদর আলীর ছেলে একরামুল হক, নৈমুদ্দিনের ছেলে বিএনপি নেতা এনামুল, বাকশিমইল গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে মমিনুল দিগর, পুরপাড়া গ্রামের আফছার আলীর ছেলে জুয়েল, পাবনা জেলার বেড়া থানার চরনাকালিয়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আবদুল কাদের, শরমইল গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে আবদুল খালেক, কেশরহাট মৃত অধীর মোল্লার ছেলে আবদুস সাত্তার, লালমনের ছেলে রায়হান, আ. লতিফ, মৃত আজাদের ছেলে শফিক, হাসান আলীর স্ত্রী সংরক্ষিত পৌর কাউন্সিলর জোসনা বেগম, হরিদাগাছী গ্রামের জানু বারইয়ের ছেলে বিএনপিকর্মী ময়েজ উদ্দিন, আবদুল হামিদের ছেলে আতাউর রহমান গং, ছামান বারইয়ের ছেলে সমসের আলী, মৃত হাতেম আলীর ছেলে রুস্তম আলী, বাগমারা থানার রক্ষিতপাড়া গ্রামের মৃত মাহাতাবের ছেলে রফিকুল ইসলাম, দর্শনপাড়া গ্রামের কফিল গাইনের ছেলে নজরুল গাইন, এবারত আলী, সিংহমারা গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে ইব্রাহিম ওরফে বাবু, তিলাহারী গ্রামের মৃত লাহারের ছেলে রইস উদ্দিন।
এসব অবৈধ দখলদারের মধ্যে কেশরহাট পৌর কাউন্সিলর সাবের আলী নালা ও কেশরহাটের সরকারি জমি দখল করে গড়ে তুলেছেন ৭টি দোকান। তার ৭টি দোকানের ১টি দোকান শহিদুল ইসলাম নামে একজন ৩২ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মাসে ৮০০ টাকায় ভাড়া নিয়েছেন। তিনি এক বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। এর সামনে রয়েছে বিএনপি নেতা এনামুল হকের দ্বিতল ভবন।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন এসব বিষয় নিয়ে স্টাডি করছে। সিএস ম্যাপ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
