জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছে শরীয়তপুরের বেদেরা

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:২৪ এএম

যাযাবর জীবন ছেড়ে ডাঙায় স্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছে বেদে সম্প্রদায়ের ১২০ পরিবারের সাড়ে ৫ শতাধিক মানুষ। এদের প্রায় অর্ধেক জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভোটার হয়েছে। এদের ছেলেমেয়েরা সুযোগ পেয়েছে স্কুল, কলেজ, মক্তব ও মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার।

ইতিমধ্যে অনেকেই তাদের আদি পেশা ছেড়ে দিয়ে বেছে নিয়েছে চাকরি, দোকানপাট, মাছের ব্যবসা, কাপড়-চোপড়, ক্রোকারিজসহ বিভিন্ন মালামাল ফেরি করে বিক্রির কাজ। তাদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটছে। এদের ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কেও এদের মধ্যকার অনেক পরিবার সচেতন হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, ২৫-৩০ বছর আগে বেদে সম্প্রদায়ের গুটিকয়েক পরিবার মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর থেকে এসে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের কীর্তিনাশা নদীর মুন্সিরহাট নামক স্থানে নৌকা রেখে এলাকায় সাপধরা, বানর নিয়ে সাপ খেলা দেখানো, শিঙ্গা লাগিয়ে বাত ব্যথার বিষ নামানো, দাঁতের পোকা ফেলা, পুকুর-ডোবা থেকে স্বর্ণ-রুপা তোলা, তাবিজ-কবজ বিক্রি করাসহ বিভিন্নভাবে জীবিকা নির্বাহ করত। বর্তমানে উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের ডোমসার গ্রামের কীর্তিনাশা নদীর তীর ঘেঁষে নিজেরা জমি কিনে স্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছে। গড়ে ওঠা বেদেদের স্থায়ী বসতির বেদে সরদার আব্দুল ছাত্তারের অধীনে ১২০টি পরিবার রয়েছে। এখনো তাদের বড় শক্তি সাম্প্রতিক ঐক্য। সর্দারকে বেদেরা সবাই মেনে চলে। অবসর সময় পুরুষরা তাস খেলে ও নারীরা লুডু খেলে সময় কাটায়।

বেদে সরদার আব্দুল ছাত্তার জানান, সাপ খেলা, ঝাড়ফুঁক তাবিজ-কবজ বিক্রির ব্যবসা এখন মন্দ। মানুষ আর আগের মতো এগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হয় না। তাই কেউ কেউ বিকল্প পেশার সন্ধানে ছুটছে।

তিনি আরও জানান, বেদে পরিবারগুলোতে আড়াই শতাধিক ভোটার রয়েছে। নির্বাচনের সময় তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকে। এ বছর ভোটার হালনাগাদের সময় আরও অনেকেই ভোটার হওয়ার জন্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান শেখ বলেন, তাদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য সরকার কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত