বিদ্যুৎ বিল কমানোর ফাঁদে ফেলে জরিমানারে

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:০৩ এএম

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের সুকৌশলে অর্থের বিনিময়ে মিটার ট্যাম্পারিং করানোর অভিযোগ উঠেছে পাঁচবিবি জোনাল অফিসের এক ড্রাইভার ও দুই ডে-লেবারের বিরুদ্ধে। তারা প্রথমে গ্রামের সহজ-সরল গ্রাহকদের মিটারে বিদ্যুৎ ‘বিল কম আসবে’ প্রলোভন দেখিয়ে অর্থের বিনিময়ে মিটার ট্যাম্পারিং করাচ্ছে। এর কিছুদিন পর মিটারে অবৈধ ট্যাম্পারিং এবং ‘চুরি করে বিদ্যুৎ চালানো’র অভিযোগ এনে করা হয় চাঁদাবাজি। এসব চাঁদা না পেলে তারা বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার খুলে নিয়ে লাখ লাখ টাকা জরিমানা করাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পাঁচবিবি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের আওতায় সৈয়দ আলীর মোড়, বিষ্ণপুর, ঘাসুরিয়াসহ বেশকিছু এলাকায়, এক-দেড় মাস আগে ওই অফিসের ড্রাইভার জিয়াউর রহমান জিয়া, ডে-লেবার সহিদুল ও মহব্বত ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে মিটার ট্যাম্পারিং করলে বিদ্যুৎ বিল কম আসবেÑ এমন প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের সহজ-সরল গ্রাহকদের মিটারের সিল কেটে ট্যাম্পারিং করে দেয়। তারপর থেকেই সুকৌশলে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা দাবি করে এবং মামলা ও জেল-জরিমানার হুমকি দেয়। এসব টাকা দিতে যে গ্রাহক রাজি হচ্ছেন না তাদের বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের দিয়ে মিটার ট্যাম্পারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে এমন অভিযোগ দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার খুলে নিয়ে বিদ্যুৎ আইনে লাখ লাখ টাকা জরিমানা ও মামলা করছে।

এ ঘটনায় অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে ক্ষতিপূরণ বিল ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা, অনাদায়ে পাঁচ বছরের জেল অথবা উভয় প্রকার দ-ের বিধান রয়েছে বলে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ক্ষতিপূরণ বিল পরিশোধ করার প্রসঙ্গে ২২ সেপ্টেম্বর গ্রাহকদের পল্লীবিদ্যুৎ কর্র্তৃপক্ষ নোটিস প্রদান করে। নোটিসের পর ভুক্তভোগী গ্রাহকরা মিটার ট্যাম্পারিং করে বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে জড়িত নয় এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করে প্রতিকার চেয়ে জয়পুরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বরাবর ২৪ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সৈয়দ আলীর মোড়ের মুদি দোকানদার সুলতান, ঘাঁসুরিয়া গ্রামের বাবুল, সাবু, বিষ্ণপুর গ্রামের আবদুল মোমিন, দুলাল হোসেন, সুলতানা বেগম, কহিনুর বেগমসহ অনেক ভুক্তভোগী বলেন, কয়েক মাস আগে পল্লী বিদ্যুতের ড্রাইভার জিয়া, ডে-লেবার সহিদুল ও মহব্বত মিটারে কাজ করলে বিদ্যুৎ বিল কম আসবে বলে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেয়। বিদ্যুতের এরকম সুবিধা আছে বলে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়ে রাতে মিটারের সিল কেটে কী যেন করে দেয় এবং বলে, ‘এখন মিটারে বিল কম আসবে’।

গ্রাহকরা বলেন, এর এক-দেড় মাস পর তারা মিটারটি ট্যাম্পারিং করা আছে বলে ৫০ হাজার কখনো ১ লাখ টাকা দাবি করে এবং মামলা ও জেল-জরিমানার হুমকি দেয়। আমরা এসব টাকা না দিলে তারা বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকে নিয়ে হঠাৎ করে এসে গত ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখ থেকে বিদ্যুতের মিটার ট্যাম্পারিং করা আছে বলে প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতটি করে মিটার খুলে নিয়ে যাচ্ছে।

পাঁচবিবি জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেন, মিটার ট্যাম্পারিং করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগে এ পর্যন্ত ২৯টি মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে খুলে আনা হয়েছে এবং এই অভিযান চলমান।

জয়পুরহাট জেলা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার রবিউল হক বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত ড্রাইভারকে বরখাস্ত এবং দুই ডে-লেবারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত